পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বেলাগাম সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। তৃণমূলের বাধায় অধিকাংশ আসনেই তারা প্রার্থী দিতে পারেনি বলে অভিযোগ। এবার ত্রিপুরার পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই একই অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধেও। 

আরও পড়ুন- তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন মুকুল, দলবদল নিয়ে দাবি অভিষেকের, দেখুন ভিডিও

আগামী ২৭ জুলাই ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই ৮২ শতাংশ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন শাসক দল বিজেপির প্রাথীরা। বিরোধী দল সিপিএম, কংগ্রেস, এমন কী সরকারে বিজেপি-র জোটসঙ্গা আইপিএফটির প্রার্থীরাও বেশিরভাগ আসনেই মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। 

ত্রিপুরার মোট ৬৬৪৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ৬১১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬১২৭ জন বিজেপি প্রার্থী। সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থীরা মোট ৭২৭ আসনে মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। সিপিএম মাত্র ৪০৮টি আসনে লড়ছে আর আইপিএফটি লড়ছে ৪৮টি আসনে।

পঞ্চায়েত সমিতির ৪১৯টি আসনেই মনোয়ন জমা দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। সেখানে সিপিএম ৯৪, কংগ্রেস ৭৪ এবং আইপিএফটি লড়ছে ৯২টি আসনে। এছাড়াও ১৫ জন নির্দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১১৬টিজেলা পরিষদ আসনে যথারীতি বিজেপি সবকটিতেই লড়ছে। সিপিএম প্রার্থীরা লড়ছেন ৯৩টি আসনে, কংগ্রেস প্রার্থীরা লড়ছেন ৮১টি আসনে আর আইপিএফটি প্রার্থীরা মাত্র ৯টি আসনে লড়ছেন।

সিপিএম পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল বিজেপি। কিন্তু ত্রিপুরায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সন্ত্রাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, মনোনয়ন কেন্দ্রগুলির সামনে  পাহারায় ছিল বিজেপির বাইক বাহিনী। বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে গেলেই তারা বাধা দিয়েছে। 
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজে উত্তেজনা কমানোর জন্য সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

আরও পড়ুন- দলের মহিলা সাংসদদের নিয়ে প্রাতঃরাশে যোগ দিলেন নরেন্দ্র মোদী

বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপি দাবজ করেছে, দীর্ঘদিন রাজ্যে অপশাসনের জন্য মানুষই সিপিএম এবনভ কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রার্থী না পেয়ে মিথ্যে অভিযোগ করছে তারা। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় অনেকটা একই দাবি শোনা গিয়েছিল তৃণমূল নেতাদের মুখে।

ত্রিপুরার রাজ্য নির্বাচন কমিশনেরও দাবি, মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে কোনও অভিযোগই নাকি তাদের কাছে জমা পড়েনি।