কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশের পর এবার ভারতীয় জনতা পার্টির লক্ষ্য রাজস্থানের সরকার ফেলা। দেশে চলা করোনা আবহে পদ্ম শিবির সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগই করলেন স্বয়ং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকার ফেলার জন্য দলের বিধায়কদের এখেক জনকে ১৫কোটি  টাকার টোপ দিচ্ছেন অমিত শাহরা।

সরকার ফেলার আগে মধ্যপ্রদেশে টাকা দিয়ে দলের বিধায়ক কেনার অভিযোগ তুলেছিলেন বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং। শনিবার সেই একই অভিযোগ শোনা গেল রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলেটক কন্ঠে। তাঁর কথায়, “এক-একজন বিধায়ককে দলে টানতে মাথাপিছু ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে রাজি গেরুয়া শিবির।” 

আরও পড়ুন: পাক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ আরও স্পষ্ট উপত্যকায়, এলওসির ১০০ মিটারের মধ্যে খতম ২ লস্কর জঙ্গি

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এই অভিযোগে সরব হয়েছেন গেহলট। দেশ করোনা মহামারির কবলে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্থানের সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। দলে টানতে একজন বিধায়ককে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। গেহলটের আরও অভিযোগ, “রাজস্থান সরকার করোনার সঙ্গে লড়াই করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সেসময় রাজ্য সরকারকে ক্রমাগত বিপাকে ফেলার চেষ্টা করে চলেছে বিজেপি। তাঁদের জানা উচিত, রাজ্যে কংগ্রেস একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তার মধ্যেই বিজেপি আপ্রাণ চেষ্টা করছে কীভাবে এই সরকারকে ফেলা যায়।”

কর্নাটক এবং মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিজেপি কোন পথে হেঁটেছিল সে প্রসঙ্গও এ দিন তুলে ধরেন গেহলট। সেখানেও বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছিল বলেও মন্তব্য করেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: 'বিকাশের ভাগ্যে এটাই ছিল', ছেলেকে নিয়ে স্বামীর শেষযাত্রায় এসে বললেন সহধর্মিনী রিচা

বিজেপির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরেই বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ তুলছিলেন কংগ্রেস নেতারা। রাজ্য কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ রাজস্থানের কুশলগড়ের এক বিধায়ককে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি। যদিও ওই বিধায়ক বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহেই কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মহেশ যোশী এবং ডেপুটি মুখ্য সচেতক মহেন্দ্র চৌধুরী দলের ২৪ জন বিধায়কের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, “বিজেপির এই বিধায়ক কেনাবেচার প্রচেষ্টাকে কোনও ভাবেই সফল হতে দেবেন না।” 

এদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সতীশ পুনিয়া গেহলতের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাল্টা বলেন, “যে সরকার করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ, গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি ক্ষত্রে যে সরকার অসফল, সেই সরকার যে এমনই অভিযোগ তুলবে এটাই প্রত্যাশিত। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছে কংগ্রেস। রাজ্যবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার রাজনীতি করছে।” পুনিয়া আরও যোগ করেন, “এটা আসলে কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। কী ভাবে তারা নিজেদের বিধায়কদের উপর ভরসা রাখবে!”

গত বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসনের বিধানসভায় ১০৭টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। ১২ জন নির্দল প্রার্থীর সমর্থনও রয়েছে তাদের। এ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় লোক দল, সিপিআই(এম) এবং ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির পাঁচ বিধায়কেরও সমর্থন রয়েছে কংগ্রেসের।

এর আগে মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে সরকার গড়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু তা ধরে রাখতে পারেনি তারা। বিধায়ক কেনাবেচা করে তাদের ঘর ভেঙে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। গেহলটের কথায়, “ওই রাজ্যেও মোটা টাকার বিনিয়মে বিধায়ক কিনেছিল বিজেপি। একই চেষ্টা চলছে রাজস্থানেও”। গেহলটের অভিযোগ, “বিজেপি অসাংবিধানিকভাবে একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতা দখল করছে। দেশের মানুষই পরবর্তী নির্বাচনে তাদের উচিৎ শিক্ষা দেবে।” 

রাজস্থানে সরকার ফেলার চেষ্টার অভিযোগের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ৷ ঘোড়া কেনাবেচা করে কংগ্রেস সরকারে ফেলে দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবারই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷