হাত ছেড়ে পদ্মে এসেছেন চলতি বছরের মর্চ মাসে। তারপর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস থেকে বিজেপি-তে আসা ১২ জন বিদ্রোহী বিধায়ক শিবরাজ পাতিল মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। পদ্ম শিবিরের সমর্থনে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ-ও হয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কিন্তু তারপরেও কি তাঁর মনের গভীরে রয়ে গিয়েছে জাতীয় কংগ্রেস? তার জন্যই কি শনিবার বিজেপির এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বিব্রত হতে হলে তাঁকে এবং তাঁর দলকে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও-য় জ্যোতিরাদিত্যকে দেখা যাচ্ছে এক জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে। সভা গরম করা বক্তৃতা  দিতে দিতে সিন্ধিয়া জ্যোতিরাদিত্য বলেন, 'প্রত্যেকেই আমার সঙ্গে হাত তুলে শপথ নিন নেয় যে আপনারা হাত চিহ্নে (কংগ্রেসের প্রতীক) ভোট দেবেন এবং কংগ্রেসকে বিজয়ী দেবেন'। মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য বিজেপি নেতা এবং উপস্থিত জনতা কিছুক্ষণের জন্য থমকে যান। তবে পরক্ষণেই নিজের ভুল সংশোধন করে নিয়ে কংগ্রেস থেকে বিজডেপি-তে আসা নেতা বলেন, 'আপনারা পদ্ম চিহ্নে ভোট দেবেন এবং বিজেপিকে বিজয়ী করবেন।'

তবে ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। জ্যোতিরাদিত্যর প্রাক্তন দল জাতীয় কংগ্রেস তাঁর এই মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথার ফায়দা তুলতে ছাড়েনি। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের বহু নেতাই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিওটি শেয়ার করেছেন।  রাজ্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে: 'সিন্ধিয়া-জি, মধ্যপ্রদেশের মানুষ আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছে যে তারা ৩ নভেম্বর হাত চিহ্নেই বোতাম টিপবেন।'

৩ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের ২৮ টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন। তার আগে মধ্যপ্রদেশে দারুণভাবে চলছে প্রচার। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া-সহ একগুচ্ছ কংগ্রেস বিধায়ক দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়াতেই রাজ্যে কমলনাথ সরকারের পতন ঘটেছিল। প্রথমে কংগ্রেসের ৪ জন বিধায়ককে বিজেপি তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযো     করেছিলেন কমলনাথ। তাঁদের মধ্যে দুজন কমলনাথ শিবিরে ফিরে এসেছিলেন। তবে এর পরপরই কমলনাথ মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রী-সহ মোট ২২ বিধায়ক নিয়ে দল ছেড়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। পরে আরও তিনজন কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৮টি আসন এই মুহূর্তে ফাঁকা। সরকারে থাকতে গেলে আসন্ন উপনির্বাচনের ২২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩ টি আসনে জিততে হবে বিজেপিকে। কারণ বসপা-র ২ জন, সপা-র একজন এবং তিনজন নির্দল বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাদের পক্ষে। তবে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাইলে জিততে হবে ৯ আসনে।

মুখ ফসকে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আবেদন করলেও প্রচারের সময় কিন্তু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে ছাড়ছেন না প্রাক্তন কংগ্রেসী জ্যোতিরাদিত্য। বিশে, করে প্রবীন কংগ্রেস নেতা কমলনাথ এবং দিগ্বিজয় সিং-কে বারবারই নিশানা করছেন তিনি। কমলনাথের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশের সরকারী কর্যালয় 'বল্লভ ভবন'এ ১৫ মাসের জন্য লকডাউন জারি রাখার অভিযোগ করেছেন। কমলনাথের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বর্তমানের বিজেপি সাংসদ জনগণকে প্রতারণা, দুর্নীতি ও অবৈধ খনির কাজে জড়িয়ে থাকার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। অপরদিকে, কংগ্রেস নেতারাও জ্যোতিরদিত্য সিন্ধিয়াকে, 'বিশ্বাসঘাতক' এবং 'ব্ল্যাকমেলার' বলে আক্রমণ করেছে।