নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আগের অবস্থানেই অনড় বিজেপি দিল্লিতে বিপর্যয়েও সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না দল নাগরিকত্ব আইনের ফলে দিল্লিতে ভোট বেড়েছে, দাবি দলীয় নেতাদের


জোর করে নাগরিকত্ব আইন দেশবাসীর উপরে চাপিয়ে দেওয়ার ফলই দিল্লি নির্বাচনে পেয়েছে বিজেপি। এমনটাই দাবি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী দলের নেত্রীরা। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে বিজেপি-র ভরাডুবির জন্য নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি নিয়ে দলের একগুঁয়েমিকেই দায়ী করেছেন। যদিও বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এমনটা মানতে নারাজ। দিল্লিতে দলের ভরাডুবি হয়েছে স্বীকার করে নিয়েও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে পিছু হঠতে নারাজ কেন্দ্রের শাসক দল। দলীয় নেতাদের বরং দাবি, দিল্লি নির্বাচনে নাগরিকত্ব আইন চালু করার সুফল পেয়য়েছে বিজেপি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

২০১৫ সালে দিল্লিতে মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার আসনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। বিজেপি-র ভোট প্রাপ্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। বিজেপি নেতাদের দাবি, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আসার জন্যই এই অতিরিক্ত জনসমর্থন পেয়েছে দল। তাই দিল্লির ফল দেখে নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করার যে দাবি বিরোধীরা তুলছেন, তা যে কখনওই মানা হবে না, এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। 

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেজরিওয়াল-এর সাবধানী অবস্থানই দিল্লিতে তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এক শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা বলেন, 'প্রথমদিকে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে খুব বেশি কিছু বলেননি কেজরিওয়াল। আবার প্রচার পর্বের শেষ দিকে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায়ও আন্দোলনকারীদের উপরই চাপিয়েছেন কেজরিওয়াল।'

দিল্লি নির্বাচনের পরেও পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম এবং কেরলের মতো যে রাজ্যগুলিতে নির্বাচন রয়েছে, সেখানেও নাগরকিত্ব আইনকে হাতিয়ার করেই যে বিজেপি প্রচারে নামবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি নেতারা মনে করছেন, নাগরিকত্ব আইনের প্রতি দিন দিন মানুষের সমর্থন বাড়ছে। এই আইনের প্রতিবাদে শাহিনবাগের মতো যে বিক্ষোভ গুলি হচ্ছে, তার পিছনে যে আসলে ধর্মীয় উস্কানি রয়েছে, সেটা মানুষের সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলেই মত বিজেপি নেতাদের।