ফ্লিপকার্টে অ্যাপল আইফোন (Apple iPhone) অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে দাড়ি গজানোর তেল (beard growth oil) পেয়েছিলেন। প্রতারিত হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেখানেই অভিযোগকারীকে ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ বাবদ অভিযোগকারীকে ৭০,০০০ টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
ফ্লিপকার্টে অ্যাপল আইফোন (Apple iPhone) অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে দাড়ি গজানোর তেল (beard growth oil) পেয়েছিলেন। প্রতারিত হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেখানেই অভিযোগকারীকে ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালত ফ্লিপকার্ট (Flipkart) এবং বিক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ বাবদ অভিযোগকারীকে ৭০,০০০ টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
মুম্বাইয়ের একটি উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (অতিরিক্ত ডিসিএফ) চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া এক আদেশে উল্লেখ করেছে যে, কোনও প্রতিকার ছাড়াই গ্রাহকের অভিযোগ বারবার না শোনাটা অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের শামিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের মাধ্যমেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটিতে ওই পণ্যের অর্ডার করা হয়েছিল। কমিশন বলেছে, "সুতরাং, প্রথম বিবাদী পক্ষের (ফ্লিপকার্ট) দায়িত্ব ছিল এটা নিশ্চিত করা যে গ্রাহক যেন তাঁর অর্ডার করা পণ্যটিই হাতে পান এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রদান করা হয়।"
একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার পর কোনও লেনদেন থেকে নিজেকে দায়মুক্ত রাখতে পারে না। বিশেষ করে যখন গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে জানান যে তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত না করা, ভুলভাবে সরবরাহ করা পার্সেলটি ফেরত না আনা, পণ্য পরিবর্তন বা অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং কার্যকর প্রতিকার ছাড়াই বারবার অভিযোগ বন্ধ করে দেওয়া, এসবই পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ঘাটতি এবং অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপের শামিল বলে কমিশন মন্তব্য করেছে।
প্যানেল আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালু রিটেইল প্রাইভেট লিমিটেড'-এর চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অভিযোগের সুরাহা না করা তাদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ঘাটতি প্রমাণ করে। তাই, অভিযোগকারীর যে ক্ষতি ও ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য প্ল্যাটফর্ম এবং বিক্রেতা—উভয়ই যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী বলে কমিশন রায় দিয়েছে।
মুম্বাইয়ের পোওয়াই এলাকার বাসিন্দা ওই অভিযোগকারী ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে 'নো-কস্ট ইএমআই' (no-cost EMI) সুবিধা ব্যবহার করে ১,১১,৭৯৩ টাকা মূল্যের একটি অ্যাপল আইফোন ১৪ প্রো (১২৮ জিবি) কিনেছিলেন। যদিও আলাদাভাবে অর্ডার করা চার্জার ও কভারটি সফলভাবে পৌঁছেছিল, কিন্তু পরের দিন আসা মূল প্যাকেজটিতে দামি স্মার্টফোনের পরিবর্তে ছিল দাড়ি গজানোর তেল এবং প্যাকিংয়ের সামগ্রী। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যে ফ্লিপকার্টের কাস্টমার সাপোর্টের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিবর্তে, কোনও অর্থ ফেরত বা পণ্য প্রতিস্থাপন ছাড়াই অভিযোগটিকে বারবার ‘নিষ্পন্ন’ (resolved) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
উপভোক্তা ফোরাম ফ্লিপকার্ট (Flipkart) এবং বিক্রেতাকে নির্দেশ দেয় যে, তারা যেন ১,১১,৭৯৩ টাকার মূল অর্থ ফেরত দেয় এবং সেই সঙ্গে ২২ এপ্রিল, ২০২৩ থেকে প্রকৃত অর্থ পরিশোধের দিন পর্যন্ত বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দেয়। পাশাপাশি, মানসিক যন্ত্রণা ও হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০,০০০ টাকা এবং মামলা চালানোর খরচ বাবদ ২০,০০০ টাকা ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
মামলার অন্যতম পক্ষ অ্যাপল ইন্ডিয়া (Apple India) একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করেছিল। সেখানে তারা যুক্তি দিয়েছিল যে, আইন বা ঘটনার বস্তুনিষ্ঠতা—কোনও দিক থেকেই এই অভিযোগটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি খারিজ হওয়া উচিত। কোম্পানিটি জানায় যে, তারা স্বাধীন ডিলার ও রিসেলারদের মাধ্যমে ‘প্রিন্সিপাল-টু-প্রিন্সিপাল’ (পারস্পরিক স্বাধীন ব্যবসায়িক সম্পর্ক) ভিত্তিতে অ্যাপল-ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ব্যবসায় যুক্ত। তাই গ্রাহকদের প্রতি ওই স্বাধীন বিক্রেতাদের কোনও দায়বদ্ধতা বা আচরণের উপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের এই যুক্তি মেনে কমিশন অ্যাপল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি খারিজ করে দেয়। কমিশন উল্লেখ করে যে, বিরোধটি মূলত ভুল পণ্য সরবরাহের বিষয়কে কেন্দ্র করেই ছিল এবং পণ্যটির প্যাকেজিং, প্রেরণ কিংবা পরিষেবায় কথিত ত্রুটির সঙ্গে প্রস্তুতকারক কোম্পানির কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
