দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশি অতিথি এবং ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান, স্নাইপার এবং অ্যান্টি-সাবোটাজ টিম। আগামী কয়েক দিন নয়াদিল্লির উঁচু ভবনগুলিতে কমান্ডোদের মোতায়েন থাকতে দেখা যাবে।

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদেশি অতিথি এবং ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান, স্নাইপার এবং অ্যান্টি-সাবোটাজ টিম। আগামী কয়েক দিন নয়াদিল্লির উঁচু ভবনগুলিতে কমান্ডোদের মোতায়েন থাকতে দেখা যাবে। ব্রিকস সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠান হবে ভারত মণ্ডপমে। নিরাপত্তার জন্য দিল্লিতে ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০০-র বেশি এনএসজি কমান্ডো এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সক্রিয় করা হয়েছে। প্রায় ৩০ জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক, যাঁদের মধ্যে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন, গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরদারি করবেন। এছাড়া ১,০০০-এর বেশি দিল্লি পুলিশের SWAT কমান্ডোকেও মোতায়েন করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে হোটেল, সর্বত্র কড়া নজরদারি

বিদেশি অতিথিরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাঁদের হোটেল এবং সেখান থেকে সম্মেলনস্থলে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ভারত মণ্ডপম এবং অতিথিদের থাকার জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ হোটেলগুলিতে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে তল্লাশি, নজরদারি, সার্ভিল্যান্স এবং ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লি পুলিশ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গেও সমন্বয় করছে।

ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা

সম্মেলন চলাকালীন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা এলাকায় ড্রোন বা অন্য কোনও ধরনের অননুমোদিত উড়ন্ত বস্তু ওড়ানো যাবে না। আকাশপথে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি হচ্ছে কি না, তার উপরও নজর রাখবে নিরাপত্তা বাহিনী। ভিভিআইপি কনভয়ের চলাচলের সময় কমান্ড ও কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যামেরা এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাস্তার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি, অ্যাম্বুল্যান্সের প্রয়োজন বা আচমকা যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ দল প্রস্তুত থাকবে।

৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

ভিভিআইপি কনভয়ের যাতায়াতের জন্য দিল্লির ৩৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২২টি ডাইভারশন পয়েন্টও তৈরি রাখা হয়েছে। ভিভিআইপি মুভমেন্টের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল বন্ধ করে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ট্রাফিকের প্রভাব পড়তে পারে, তার মধ্যে রয়েছে সর্দার প্যাটেল মার্গ, মাদার টেরেসা ক্রিসেন্ট, তিন মূর্তি মার্গ, আকবর রোড, তেজ জানুয়ারি মার্গ, রাজেশ পাইলট মার্গ, সুব্রহ্মণ্যম ভারতী মার্গ, মথুরা রোড, মোতিলাল নেহরু মার্গ, জনপথ, অশোকা রোড, বারাখাম্বা রোড, টলস্টয় মার্গ, নীতি মার্গ এবং এপিজে আবদুল কালাম রোড। পাশাপাশি প্রেস এনক্লেভ রোড ও লালবাহাদুর শাস্ত্রী মার্গ-সহ আরও বেশ কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাফিক ব্যবস্থা সামলাতে প্রায় ৫,০০০ ট্রাফিক পুলিশকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভিভিআইপি কনভয়ের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য GPS ট্র্যাকিং, CCTV সার্ভিল্যান্স, টেকনিক্যাল মনিটরিং, রিয়েল-টাইম কমিউনিকেশন এবং কুইক রেসপন্স টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সাধারণ যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ নয়

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাফিক বিধিনিষেধের অর্থ গোটা দিল্লিতে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। ভিভিআইপি মুভমেন্টের সময় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রভাবিত নয় এমন রাস্তায় স্বাভাবিক যান চলাচল বজায় থাকবে। মেট্রো পরিষেবাতেও সাধারণভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।