দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলা চলার পর সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার পর একের পর এক মুসলিম স্থাপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কাশী-মথুরার শ্রীকৃষ্ণজন্মভূমিতে অবস্থিত মসজিদ নিয়ে আজদালতে মামলা হওয়ার পর এবার ফোকাস রাজধানীর বিখ্য়াত ইসলামিক স্থাপত্য কুতুব মিনারের উপর। দিল্লির মেহেরুলি-তে অবস্থিত কুতুব মিনার-এর জদায়গায় আগে সেখানে হিন্দু ও জৈন ধর্মের বেশ কয়েকটি মন্দির ছিল বলে দাবি করে, কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে পূজার অধিকার চেয়ে সাকেত জেলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন - রাম মন্দির নিয়ে বড় খবর - ২৫ ডিসেম্বর আসছে গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট, কবে শুরু হবে নির্মাণ

আরও পড়ুন - খোলা ময়দানে হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিচার - ভারতের রাজনীতিতে 'বিপ্লব' ঘটালেন অভিমানী বিজেপি নেতা

আরও পড়ুন - 'সরকার আছে কতক্ষণ', পঞ্চায়েত ভোট থেকেই শোনা যাচ্ছে আরও এক রাজ্যে কংগ্রেসের বিদায় বাজনা

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ করা হয়েছে বারোশো শতাব্দীতে যে কুতুবুদ্দিন আইবক, দিল্লিতে সুলতানশাহি স্থাপনের আগে সেখানে জৈন তীর্থঙ্কর ভগবান ঋষভ দেব-এর উপাসনাস্থল-সহ ভগবান বিষ্ণু, গণেশ, শিব, সূর্য, হনুমান দেবী গৌরী-সহ মোট ২৭ টি মন্দির ছিল। সেইসব মন্দির ভেঙে কুতুবুদ্দিন আইবক এই মিনারটি তৈরি করেছিলেন। সেইসব দেবদেবীদের সেখানে পুনঃস্থাপন এবং তাদের যথাযথ আচার-অনুষ্ঠান সঙ্গে পূজা করার অধিকার চাওয়া হয়েছে মামলায়। সেইসঙ্গে ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট অ্যাক্ট অনুসারে, কেন্দ্রীয় সরকারকে কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত মন্দির কমপ্লেক্সের পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য   একটি ট্রাস্ট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হোক, এমনও বলা হয়েছে মমলার আবেদনে।

আনুমানিক ১১৯৯ সালে কুতুব মিনার তৈরি কর শুরু হয়েছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই কাঠামোটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর অন্তর্গত। ইতিহাস বলছে, এই স্মৃতিসৌধটি সুলতানশাহি প্রতিষ্ঠার আগের দিল্লি বা ধিলিকা (দিল্লির আগের নাম)-র লাল কোট দুর্গের ধ্বংসাবশেষের উপরে নির্মান করা হয়েছিল। ৭২.৫ মিটার দীর্ঘ এই মিনারটি বিশ্বের দীর্ঘতম ইট-নির্মিত মিনার। এর ভিতরে ৩৭৯ ধাপের প্যাঁচানো সিড়ি রয়েছে।