কোভিড-১৯ মহামারির সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভারতের দরীদ্র মানুষদের উপরএই অবস্থায় তাদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল গান্ধীঅর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর অবস্থা আরও খারাপ হলে সেই পথেই হাঁটবে মোদী সরকারএমনকী প্রয়োজনে বাড়তি নোট ছাপিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়া হতে পারে 

গত কয়েকদিন ধরে বারবার করে ভারতীয় জনসংখ্যার সবচেয়ে দরিদ্রতম ৫০ শতাংশ মানুষকে অন্তত ছয়মাস মাসে মাসে ন্যুনতম ৭৫০০ টাকা করে দেওয়ার দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। যা গত লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের ইস্তাহারে 'ন্যায়' প্রকল্পে বলা হয়েছিল। এবার সেই 'ড্রামেবাজ' 'পাপ্পু'র পরামর্শই মানতে চলেছে মোদী সরকার। শুক্রবার অর্থ মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় এক সূত্র জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির জেররে আর্থিক সঙ্কট আরও গভীরতর হলে সরকার গরিব ও পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ নগদ সহায়তার কথা বিবেচনা করবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোভিড-১৯ ঠেকাতে যে লকডাউন জারি করা হয়েছে, তার কারণে ভারতের প্রধান প্রধান শহরগুলিতে আপাতত কোনও কাজ নেই। যার জেরে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক তাদের ঘরে ফিরতে চাইছেন। মাইলের পর মাই হেঁটে, বা অন্য যে কোনও উপায়ে ঘরে ফিরতে চাইছেন তাঁরা। আয়ের উৎস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, সমাজের এই অংশের উপরই সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে কোভিড-১৯ মহামারির।

এই অবস্থায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর কংগ্রেসের তাবড় নেতারা বারবার করে ভারতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি নগদ অর্থায়নের দাবি তুলেছেন। এতদিন সেই প্রস্তাবে কর্ণপাত না করলেও সরকারের অন্দরে ইতিমধ্যেই এই ধরণের কথা শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রককে দেশে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর থেকে কত মানুষ কাজ হারিয়েছেন, কতজনের বেতন কমে গিয়েছে, তার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।

এমনকী এই অর্থনৈতিক ঘাটতির মোকাবিলায় বেশি করে টাকা ছাপানোর বিকল্পের কথাও ভাবা হচ্ছে, যা অন্তত মাস দুয়েক আগে বলেছিলেন ২০১৯-এ অর্ছনীতিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, এখনও ভারতীয় অর্থনীতি সেই অবস্থায় পৌঁছায়নি। তবে 'যখন সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে', তখন এই বিকল্পের কথাও ভাবা হবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে মোদী সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ২০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, তাতে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তার বদলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন কর ছাড়ের মতো অর্থছনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। যে সম্পর্কে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন সেই 'প্যাকেজ কোনও কাজে আসবে না'। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, সরকারকে সরাসরি গরীব মানুষের হাতে অর্থ দিতে হবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে তবেই দেশের আর্থিক হাল ফিরতে পারে। অবশেষে তাঁর সেই পরামর্শ মানার ইঙ্গিত দিল মোদী সরকার।

অবশ্য কোভিড মোকাবিলায় কংগ্রেসের পরামর্শ এই প্রথম মানল মোদী সরকার, তেমনটা নয়। লকডাউনের তৃতীয় দফায়, ৮ মে তারিখে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, রেড, অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোনের ভিত্তিতে ভারতের জেলাগুলিকে ভাগ করার কাজ কেন্দ্রের হাতে না রেখে রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনগুলির হাতে ছাড়া উচিৎ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের দাবি তুলেছিলেন। ১৭ মে চতুর্থ দফার লকডাউন ঘোষণার সময়, তাঁর এই পরামর্শ মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র।