মহামারি তার নিজের গতিতে ছড়িয়ে চললেও তারমধ্যেই ভারতে চলছে আনলক অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে একের পর এক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ফের চালু করার প্রক্রিয়া। শনিবারই চতুর্থ দফার আনলকের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। হাতে গোনা কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া প্রায় সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রের এই নয়া নির্দেশিকায় সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের 'পূর্ণ লকডাউন'-এর ভবিষ্যত।

শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, এতদিন দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই এতদিন সংক্রমণের শৃঙ্খল ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে সপ্তাহে একদিন কিংবা দুইদিন পূর্ণ লকডাউন জারি করা হচ্ছিল। অগাস্ট মাসে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দুই দিন করে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছিল। কর্নাটকে চলছে প্রতি রবিবার পূর্ণ লকডাউন। বস্তুত তৃতীয় দফার লকডাউনের সময় থেকেই কোথায় কোথায় লকডাউন জারি করা হবে, সেই বিষয়ে কতটা কড়াকড়ি করা হবে - ইত্যাদি সকডাউন বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে। ব্লক, জেলা ও রাজ্যস্তরে এই বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করছিল প্রশাসন।

আনলক ৪-এর নির্দেশিকায় কিন্তু, সেই ক্ষমতা ফের ছাঁটা হয়েছে। নির্দেশিকার চার নম্বর পয়েন্টে গোটা গোটা হরফে বলা হয়েছে কনটেইনমেন্ট জোনগুলির বাইরে রাজ্যগুলি কোনও স্থানীয় স্তরের লকডাউন জারি করতে পারবে না। যদি তা করতে হয়, তার জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। তবে কনটেইনমেন্ট জোনগুলিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে। কনটেইনমেন্ট জোনগুলি কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী চিহ্নিত করতে হবে জেলা প্রশাসনগুলিকেই।    

সমস্যা হল ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ঘোষণা করে দিয়েছেন রাজ্যে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে। এরমধ্য়ে ৭,১১ ও ১২ তারিখ রাজ্যে পূর্ণ লকডাউন। কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী এই লকডাউন জারি করার অধিকার রাজ্যের হাতে আর নেই। তাই প্রশ্ন উঠছে ৩১ অগাস্টের পর রাজ্যে লকডাউন হবে কি হবে না, তাই নিয়ে। ধন্দে পড়েছেন অনেকেই। এই বিষয়ে কি রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে অনুমতি চাইবে? এখনও কিছুই জানানো হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এছাড়া আনলকের চতুর্থ পর্যায়ে চালু হতে চলেছে মেট্রোরেল পরিষেবা। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গড়াবে মেট্রোর চাকা। চালু হচ্ছে স্কুল-ও। তবে শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতি থাকবে ৫০ শতাংশ আর ছাত্রছাত্রীদের সীমিত করা হয়েছে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেনীর মধ্যে। সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক জমায়েতে লোকসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। তবে সিনেমা হল, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক, সুইমিং পুল-এর মতো গণজমায়েতের জায়গাগুলি এখনও বন্ধই রাখা হয়েছে।