পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৩৭ জন রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বুধবার রাজ্যসভায় বিদায়ী সাংসদদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "রাজনীতিতে কোনও পূর্ণচ্ছেদ নেই।"
পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৩৭ জন রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বুধবার রাজ্যসভায় বিদায়ী সাংসদদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "রাজনীতিতে কোনও পূর্ণচ্ছেদ নেই।" বিদায়ী সাংসদের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দেশ গঠনে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি, সংসদের গণ্ডির বাইরেও জনসেবা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলার ৫ রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মৌসম বেনজির নূর। এছাডা়ও, সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল। রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে ছ’বছরের মেয়াদ শেষ করবেন সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও। ইতিমধ্যেই এই আসনগুলিতে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু, আপনি কি জানেন, রাজ্যসভা সাংসদরা যখন আর সংসদের সদস্য থাকেন না, তখন তাঁরা কত টাকা পেনশন পান? তাহলে চলুন, রাজ্যসভা সাংসদদের পেনশনের হিসাবটি জেনে নেওয়া যাক।
কত টাকা পেনশন পাওয়া যায়?
সংসদের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সাংসদরা প্রতি মাসে ৩১,০০০ টাকা পেনশন পান। এর আগে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫,০০০ টাকা। তবে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক কর্তৃক জারি করা সর্বশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংসদদের পেনশন ও বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, যেসব সদস্য পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের জন্য অতিরিক্ত পেনশনের পরিমাণ ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করা হয়েছে। এর অর্থ হল প্রতি বছর পেনশনের পরিমাণ ২,৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি পাবে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি কোনও সাংসদের মেয়াদ মাত্র পাঁচ বছর হয়, তবে তিনি প্রতি মাসে ৩১,০০০ টাকা করে পাবেন। আর যদি তাঁর মেয়াদ সাত বছর হয়, তবে তিনি ৩১,০০০ টাকার পাশাপাশি প্রতি বছর ২,৫০০ টাকা হারে অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা পাবেন। অর্থাৎ, তিনি প্রতি মাসে মোট ৩৬,০০০ টাকা পেনশন পাবেন। তাছাড়া, কোনও সদস্যের শেষ বছরটি যদি মাত্র নয় মাসের হয়, তবুও তা পূর্ণ এক বছর হিসেবেই গণ্য হবে।
পেনশনের পাশাপাশি আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়?
প্রাক্তন সাংসদরা ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা পান। তাঁরা যদি একা ভ্রমণ করেন, তবে তাঁরা 'ফার্স্ট এসি' (First AC) কামরায় ভ্রমণের যোগ্য বলে বিবেচিত হন। আর যদি তাঁরা কাউকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করেন, তবে তাঁরা এবং তাঁদের সঙ্গী—উভয়েই 'সেকেন্ড এসি' (Second AC) কামরায় বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁদের প্রথমে সচিবালয় থেকে একটি কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাংসদরা স্টিমারে (জলযানে) বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যে ভ্রমণের পাশাপাশি, প্রাক্তন সাংসদরা 'সিজিএইচএস' (CGHS)-এর সুবিধাও ভোগ করে থাকেন। তাছাড়া, প্রাক্তন সাংসদরা তাঁদের জীবনসঙ্গীর (spouse) জন্য একটি বিশেষ কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন, যার মাধ্যমে তাঁরা সরকারের বিভিন্ন ভবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন। আবাসন বা বাসস্থানের বিষয়ে বলতে গেলে, সাংসদ সদস্যরা (MPs) তাঁদের কার্যকালে একটি সরকারি বাসভবন পেয়ে থাকেন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁদের সেটি খালি করে দিতে হয়। যদি তাঁরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করেন, তবে তাঁদের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
সাংসদরা কত বেতন পান?
বেতনের প্রসঙ্গে বলা যায়, রাজ্যসভার সদস্যদের মাসিক বেতন ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, তাঁদের দৈনিক ভাতাও ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করা হয়েছে। সাংসদরা নির্বাচনী এলাকা ভাতা হিসেবে ৭০,০০০ টাকা, দফতরের ভাতা হিসেবে ৬০,০০০ টাকা এবং সংসদ অধিবেশন চলাকালীন দৈনিক ভাতা হিসেবে ২,০০০ টাকা পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধার পাশাপাশি তাঁরা ৫০,০০০ ইউনিট বিদ্যুৎ এবং ৪,০০০ কিলোলিটার জল ব্যবহারের সুবিধাও পেয়ে থাকেন।


