উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিলের উপস্থিতিতে জল জীবন মিশন নিয়ে একটি বড় ঘোষণা করা হল। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে পানীয় জলের পরিকাঠামো তৈরির পর ঠিকাদারদেরই আগামী ১০ বছর তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বাসিন্দার কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে জল জীবন মিশনের (JJM) অধীনে একটি নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিলের সঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা করেন। যোগী জানান, রাজ্যের ১,০৫,০০০ রাজস্ব গ্রামের মধ্যে ১০,০০০-এর বেশি গ্রামে ইতিমধ্যেই পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, নতুন চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প শেষ হওয়ার পর পুরো এক দশক পর্যন্ত পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদাররাই দায়ী থাকবেন, যাতে পরিষেবার মান বজায় থাকে। এই বিষয়ে কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের মধ্যে একটি মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
যোগী বলেন, "জল জীবন মিশনের (JJM) অধীনে গ্রামের শেষ ব্যক্তিটির কাছেও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জল জীবন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আজকের এই মউ কর্মসূচিতে আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিল এবং তাঁর পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানাই।"
প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "উত্তরপ্রদেশে ১,০৫,০০০-এর বেশি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে, যার মধ্যে ১০,০০০-এর বেশি গ্রামে ইতিমধ্যেই পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে আমরা নিশ্চিত করেছি যে সমস্ত ঠিকাদার সংস্থা কাজ শেষ হওয়ার পর ১০ বছর পর্যন্ত এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী থাকবে।"
জলবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই
তিনি উল্লেখ করেন যে, আগে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে এনসেফ্যালাইটিসের কারণে যে অকালমৃত্যু ঘটত, তার মূল কারণ ছিল খোলা জায়গায় শৌচকর্ম এবং দূষিত পানীয় জল। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "জলের উৎস যথেষ্ট ছিল, এবং মানুষ সাধারণত জলের পরিমাণ নিয়ে সমস্যায় পড়ত না। কিন্তু দূষিত জলের কারণে অকালমৃত্যুর অভিযোগ বাড়ছিল। আমি শুধু একটা উদাহরণ দেব: পূর্ব উত্তরপ্রদেশে জলের উৎস যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এনসেফ্যালাইটিসে মারা যেতেন। আমরা যখন এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করি, তখন দেখা যায় যে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম এবং দূষিত পানীয় জলের কারণেই এই মৃত্যুগুলো ঘটছে।"
তিনি আরও বলেন, "আজ জল জীবন মিশনের অধীনে সেই গ্রামগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছেছে এবং প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরি হয়েছে। যেখানে ৪০ বছরে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে গত পাঁচ বছরে আমরা মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছি।"
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই সাফল্যের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টিকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এই সাফল্যের কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিকে দিই, যিনি স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে 'প্রতি বাড়িতে শৌচালয়' এবং জল জীবন মিশনের অধীনে 'প্রতি বাড়িতে নল' প্রকল্প চালু ও বাস্তবায়ন করেছেন।”


