কোনও মতবিরোধ নয়। বরং হায়দরাবাদ কাণ্ডের বীভৎসায় বহুদিন বাদে সংসদে শাসক এবং বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ ছবি দেখা গেল।  দলমত নির্বিশেষে সবাই মেনে নিলেন, এমন জঘন্য অপরাধ আটকাতে আরও কড়া আইন নিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারেরও যে তাতে আপত্তি নেই তা স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তবে একই সঙ্গে অনেক সাংসদই মনে করছেন, শুধু করা আইনই যথেষ্ট নয়, হায়দরাবাদ কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। 

২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের পরে ধর্ষণের মতো ঘটনা আটকাতে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে নতুন আইন এনেছিল কেন্দ্র। পুরনো আইন সংশোধন করে তাতে আরও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, কড়া আইনের জুজু দেখিয়ে নির্ভয়া কাণ্ডের মতো ঘৃণ্য অপরাধ আটকানো সম্ভব হবে। 

আরও পড়ুন- 'শয়তানদের চিহ্নিত করে শেষ করতে হবে', হায়দরাবাদ কাণ্ডে সরব ভাইজান

আরও পড়ুন- নির্যাতিতার স্কুটারেই ফের ঘটনাস্থলে ফিরেছিল দুই ধর্ষক, প্রকাশিত আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে শিশুকন্যা থেকে শুরু করে নাবালিকা, মহিলাদের উপরে একের পর এক পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে গত ছ' বছরে। যে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসকের গণধর্ষণ এবং পুড়িয়ে হত্যা। গোটা দেশের মতোই এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশের সাংসদদেরও। এ দিন তাই সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। 

বিরোধীদের দাবিতে সহমত পোষণ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনিও স্বীকার করে নেন যে নির্ভয়া আইন আসার পরে মনে করা হয়েছিল যে ধর্ষণের মতো অপরাধ কমানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফলে আরও কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না বলেই স্বীকার করেছেন রাজনাথ।  সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হায়দরাবাদের নৃশংসতার নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি সাফ বলেন, ''এর থেকে বেশি অমানবিক কিছু হতে পারেনা। সব দলই মনে করছে যে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে কোনও দ্বিমতই নেই। নির্ভয়া কাণ্ডের পর কড়া আইন এসেছে। ভাবা হয়েছিল এবার হয়তো এমন অপরাধে রাশ টানা যাবে। কিন্তু তার পরেও এমন জঘন্য ঘটনা ঘটছে। সংসদে আলোচনা নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার জন্য যা যা করণীয়, সরকার সবকিছু করতে তৈরি। যদি আইন সংশোধন করতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই সরকারের। এ বিষয়ে সবার পরামর্শ শুনতে রাজি সরকার। কিন্তু সংসদে আলোচনা হবে কি না, তা অধ্যক্ষই ঠিক করুন।'

রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ বলেন, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ  আটকাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। দল, ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সৌগত রায় বলেন, এমন আইন প্রণয়ন করা হোক যাতে ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। হায়দরাবাদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও।