- Home
- India News
- LPG Levy: এবার প্রতি কেজি গ্যাসে ট্যাক্স নেবে কেন্দ্র, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আরও বাড়তে পারে
LPG Levy: এবার প্রতি কেজি গ্যাসে ট্যাক্স নেবে কেন্দ্র, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আরও বাড়তে পারে
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪২ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারকারীদের উপর একটি ছোট লেভি বা বিশেষ কর আরোপের কথা বিবেচনা করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪২ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারকারীদের উপর একটি ছোট লেভি বা বিশেষ কর আরোপের কথা বিবেচনা করছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে কোনও বড় ধরনের ধাক্কা লাগলে ভারত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়তে পারে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপরই এই প্রস্তাবটি সামনে আসে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটিই হবে প্রথমবার যখন ভারতের কৌশলগত মজুত কর্মসূচি অপরিশোধিত তেলের বাইরেও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা রান্নার গ্যাস পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এলপিজির উপর প্রতি কেজিতে ১.২৯ টাকা লেভি আরোপের কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এর ফলে সাধারণ ডোমেস্টিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৮ টাকা বেড়ে যাবে। বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী, এই লেভি থেকে বছরে প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে মন্ত্রক প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটারে ১.৪৩ টাকা লেভি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। সব মিলিয়ে, এই দুটি লেভি থেকে গ্যাস মজুতের পরিকাঠামো তৈরির জন্য বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই লেভি কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত কৌশলগত মজুত কর্মসূচিতে আগামী এক দশকে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হবে পরিকাঠামো নির্মাণের পেছনে এবং বাকি অর্থ ব্যবহার করা হবে জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার কাজে। এই পরিকল্পনায় ভারতের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি-র প্রায় দুই মাসের চাহিদা এবং এলপিজি-র প্রায় ছয় সপ্তাহের ব্যবহারের সমান জ্বালানি মজুত রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত পরিকাঠামো তৈরিতে অর্থ ব্যবহার করা হবে ব্যবহারকারীদের উপর আরোপিত লেভির মাধ্যমে। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের মজুত ও কৌশলগত জ্বালানি সংগ্রহে অর্থ দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারই অব্যাহত রাখবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১০ বছরে অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং এলএনজি (LNG) ও এলপিজি (LPG) সংরক্ষণের জন্য যথাক্রমে ৯ মিলিয়ন ও ৪ মিলিয়ন টন ধারণক্ষমতার প্রয়োজন হবে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে এখনও আলোচনা চলছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা এখনও এতে অনুমোদন দেয়নি। প্রস্তাবিত এই লেভি বা শুল্ক কার্যকর হলে গ্যাসের বিল প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যাবে।