'অখন্ড ভারত'-এর ছটি নদীর মধ্যে তিনটি নদীর জল ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত হচ্ছে। পাকিস্তানে এই জলের প্রবাহ বন্ধের জন্য চেষ্টা করছে মোদী সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি। আর এই জলপ্রবাহ বন্ধ করতে পারলে, এই বাড়তি জলটা পাবে জম্মু ও কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ।

মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে গুজরাতে বিজেপির ভার্চুয়াল 'জন সম্বন্ধ' সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, ভারত শান্তি ও অহিংসায় বিশ্বাস করে। সম্প্রসারণবাদী হয়ে অর্থাৎ অন্য দেশের জায়গা দখল করে শক্তিশালী হতে চায় না। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, 'অখন্ড ভারতে' ছয়টি নদী ছিল যেগুলি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্য় দিয়েই প্রবাহিত। দেশভাগের সময়ের চুক্তি অনুসারে, তিনটি নদীর জল পাকিস্তানের জন্য সংরক্ষিত ছিল, অন্য তিনটি নদীর জল পাওয়ার কথা ভারতের। কিন্তু, ভারতীয় অংশের তিনটি নদীর জল পাকিস্তানেও প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৭০ সালের পর প্রথমবার এই জলসম্পদ ভারতে ধরে রাখার জন্য সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, এর আগে এই বিষয়ে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ - এই রাজ্যগুলি এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়নি। মোদী সরকারের আমলেই জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন গভর্নর সত্যপাল মালিক এবং পঞ্জাবের কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং এই বিষয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। কাজেই এবার পাকিস্তানে ভারতীয় নদীর জলপ্রবাহ বন্ধ হবেই। তিনি আরও জানান, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখিয়েছে। এর আগে কোনও সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপই নেয়নি।

এর পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নদীর জলের ভাগাভাগি নিয়ে যে বিরোধ তাও মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে মোদী সরকার। নীতিন গড়করির দাবি দ্বন্দ্বমূলক নয়টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের বিষয়টি সমাধানের জন্য এক জায়গায় আনা হয়েছে, এবং বিষয়গুলির সমাধান মিলেছে।