নিজের স্ত্রীর হাতেই ছেলের খুনের কথা জানতে পেরে সুদূর জাকার্তা থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন কেরলের ভেঙ্কট রমন।

চার বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে ব্যাগে নিয়ে ঘুরছিলেন সফল ব্যবসায়ী মহিলা সূচনা শেঠ। গোয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ছেলের মৃতদেহ লুকিয়ে নিয়ে তিনি পালাচ্ছিলেন বেঙ্গালুরুর দিকে। মাঝপথেই তাঁকে পাকড়াও করে গোয়ার পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এবার পাওয়া গেল পশ্চিমবঙ্গের যোগ। তার পাশাপাশি প্রকাশ্যে এসেছে অভিযুক্ত মহিলা সূচনা শেঠের বিবাহ-বিচ্ছিন্ন স্বামী ভেঙ্কট রমনের তথ্য।


নিজের স্ত্রীর হাতেই ছেলের খুনের কথা জানতে পেরে সুদূর জাকার্তা থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন ভেঙ্কট রমন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্ণাটকের চিত্রদুর্গে পৌঁছে নিজের ছেলের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দিয়েছেন তিনি। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবসার কোম্পানি ‘দ্য মাইন্ডফুল এআই ল্যাব’-এর সিইও (CEO) সুচনা শেঠ, উত্তর গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে ৬ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে নিজের সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। 

(বিস্তারিত জানুন: নিজের ছেলেকে মেরে মৃতদেহ ব্যাগে ভরে নিয়ে এলেন মা, উচ্চপদস্থ ব্যবসায়ি মহিলার কাণ্ডে তাজ্জব পুলিশকর্তারা)

সুচনা শেঠের বিচ্ছিন্ন স্বামী ভেঙ্কট রমন কে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ধৃত সুচনা শেঠ আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। কাজের জন্য তিনি বেঙ্গালুরুতে বসবাস করতে শুরু করেন। তাঁর স্বামী ভেঙ্কট রমন কেরলের বাসিন্দা। ভেঙ্কট রমন এবং সুচনা শেঠ ২০১০ সালে বিয়ে করেছিলেন এবং ২০১৯ সালে তাঁদের ছেলের জন্ম হয়েছিল। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার নিধিন ভালসান সংবাদ সংস্থাগুলিকে জানিয়েছেন যে, পাকড়াও করার সময় সুচনা শেঠকে খুব অসন্তুষ্ট বলে মনে হয়েছিল। 


এআই বিশেষজ্ঞ এবং ডেটা বিজ্ঞানী, সুচনা শেঠ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে উল্লেখ করেছেন যে, এই কাজে তাঁর ১২ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডেটা অ্যান্ড সোসাইটিতে মোজিলা ফেলো, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টারের ফেলো এবং রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একজন রিসার্চ ফেলো-র মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর পড়াশোনা করা রয়েছে। একজন পদার্থবিজ্ঞানী থেকে ডেটা সায়েন্টিস্টে রূপান্তরিত হয়ে তিনি ক্রমেই সফলতার চূড়ান্তে পৌঁছেছেন। 

এমন সফল ব্যবসায়ী এবং গুণী ব্যক্তি , মা হয়ে কেন , কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে নিজের শিশু সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করলেন, সেই বিষয়েই বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। ধৃত সূচনা শেঠকে উত্তর গোয়ার মাপুসা কোর্টে পেশ করা হয়েছে।