বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরো। শনিবার ভোরে চাঁদের মাটিতে অবতরণের সময় একেবারে শেষ মুহূর্তে বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। রবিবার অরবাইটারের থাকা থার্মাল ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল চাঁদের বুকেই পড়ে রয়েছে বিক্রম। সোমবার ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিক্রম চাঁদে মাটিতে হেলে থাকাতেই সমস্যা হচ্ছে যোগাযোগ পুনর্স্থাপন করতে।

গোটাই রয়েছে বিক্রম

সোমবার, ইসরোর এক সিনিয়র বিজ্ঞানী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত পাওযয়া তথ্য থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন চাঁদের মাটিতে সফ্ট ল্যান্ডিং করতে পারেনি বিক্রম। যে জায়গায় তার নামার কথা ছিল, তার খুব কাছেই একটি স্থানে হার্ড ল্যান্ড করেছে চন্দ্রযান ২ -এর ল্যান্ডার। তবে তারপরেও পেটের মধ্যে প্রজ্ঞান রোভার-কে নিয়ে অক্ষতই রয়েছে বিক্রম, টুকরো টুকরো হয়ে যায়নি।  

চার্জ সমস্যা নয়

রবিবার বিক্রমের খোঁজ পাওয়ার পর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের অনেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন ল্যান্ডারের সোলার প্যানেলের অবস্থান নিয়ে। পর্যাপ্ত সুর্যের আলো প্যানেলে না পড়লে বিক্রমের ব্যাটারি রিচার্জ হবে না এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু, ইসরোর পক্ষ থেকে এদিন জানানো হয়েছে চার্জটা কোনও সমস্যা নয়। কারণ বিক্রমের গোটা গা জুড়েই সব দিক থেকে সোলার প্যানেল লাগানো রয়েছে। কাজেই যে টুকু সূর্যের আলোই পাক না কেন তাতে বিক্রমের ব্যাটারি রিচার্জ হয়ে যাবে। তাছাড়া ভিতরে আরও একটি অতিরিক্ত ব্যাটারি লাগানো রয়েছে, যা এতদূর যাত্রাপথে বিশেষ ব্যবহার হয়নি।

আরো পড়ুন - চাঁদের পর শুক্রগ্রহ থেকে সূর্য, ইসরোর হাতে আগামী দিনে রয়েছে আরও বড় বড় অভিযানের পরিকল্পনা

আরো পড়ুন - ক্রমেই আশা হচ্ছে ম্লান, বিক্রমের সঙ্গে ফের যোগাযোগের কতটা সম্ভাবনা দেখছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা

আরও পড়ুন -চন্দ্রপৃষ্ঠে বাধা,তাই বিক্রমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না,জানালেন চন্দ্রযান-১-এর ডিরেক্টর

আরো পড়ুন - ইসরোর চন্দ্রাভিযান তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণা, ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিল নাসা

অ্যান্টেনাই যত সমস্যার মূলে

সমস্যা তৈরি হয়েছে অ্যান্টেনা নিয়ে। বিক্রম চাঁদের মাটিতে হেলে থাকায় তার অ্যান্টেনা ইসরোর আর্থ স্টেশন বা চন্দ্রযান ২ -এর অরবাইটার কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে না। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এক আগে জিওস্টেশনারি অরবিটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মহাকাশযান-কে পুনরুদ্ধার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইসরোর। কিন্তু বিক্রম ইতিমধ্যেই চাঁদের মাটিতে রয়েছে। এই অবস্থায় তাকে ঘুরিয়ে তার অ্যান্টেনাকে আর্থ স্টেশন বা অরবাইটারের দিকে আনাটা খুবই কঠিন প্রক্রিয়া।


কিন্তু, একেবারেই অসম্ভব তাও নয়। এক চন্দ্রদিন অর্তাৎ পৃথিবীর দিনরাতের হিসাবে ১৪ দিন কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে বিক্রম ও প্রজ্ঞানের। তাই হাতে এখনও আরও কয়েকটা দিন রয়েছে। আশা একেবারে ছাড়ছে না ইসরো।