বাবা অথবা মা  নাম রয়েছে এনআরসি তালিকায়। কিন্তু বাদ পড়ে গিয়েছে শিশু সন্তান। এমন অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে বাবা- মায়েদের থেকে সন্তানকে আালাদা করা হবে না বলেই সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বরং যতদিন না সংশ্লিষ্ট শিশুটির অভিভাবকদের করা আবেদনের ফয়সালা ফরেনার্স ট্রাইবুনাল- এ হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত বাবা এবং মায়ের সঙ্গে সন্তান থাকতে পারবে। অসমের এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়েই এই মতামত শীর্ষ আদালতে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। 

কংগ্রেস নেতা এবং আইনজীবী কপিল  সিবলের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল  কে কে বেণুগোপাল প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে এবং বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর ডিভিশন বেঞ্চকে এ কথা জানান। কপিল সিবলের দাবি ছিল, এনআরসি তালিকা থেকে যে শিশুদের নাম বাদ পড়বে, তাদের যেন বাবা-মায়েদের থেকে আলাদা করে ডিটেনশন ক্যাম্প-এ নিয়ে না যাওয়া হয়। 

কপিল সিবলের এই আবেদনের সঙ্গে সহমতই পোষণ করে তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে অবশ্য তারা কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, এনআরসি-র চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে যেন কোনও রকম অদলবদল না করা হয়। 
এর পাশাপাশি অসমের এনআরসি কোঅর্ডিনেটর হিতেশ দেবশর্মার বদলিও দাবি করেছিলেন সিবল। তাঁর অভিযোগ ছিল, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট করেছেন ওই সরকারি আধিকারিক। 

যদিও অসমের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন এবং এখন এনআরসি কোঅর্ডিনেটর হিতেশ দেবশর্মার কার্যত কোনও ভূমিকাই নেই। ডিভিশন বেঞ্চ অবশ্য জানায়, ওই আধিকারিককের কাছ থেকে তাঁর বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা চাইতেই পারত কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি ফেসবুক-এ করা মন্তব্যগুলি প্রত্যাহার করার নির্দেশও দেওয়া যেত। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়া-তে এই পোস্টগুলি সত্যিই তিনি করে থাকলে তা ঠিক করেননি।'

অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আদালতকে জানান, এনআরসি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান হল সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তথ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তিনি বলেন, 'আধারের মতো যে তথ্যগুলি সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা থাকবে যাতে কেউ এই তথ্য হাতিয়ে অপব্যবহার না করতে পারে।'