বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার ও তাদের উপর নির্ভরশীলদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার ও তাদের উপর নির্ভরশীলদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, আমরা হাই কমিশন এবং অন্যান্য পদে কর্মকর্তাদের উপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। যদিও মিশন ও অন্য সমস্ত অফিস খোলা থাকবে।

কূটনীতির ভাষায় বাংলাদেশকে একটি ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে বিবেচনা করছে ভারত। পিটিআই বলছে, ঢাকায় দেশটির হাইকমিশন-সহ বাংলাদেশে থাকা পাঁচটি মিশনই ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হবে। তবে পাঁচটি কূটনৈতিক মিশনই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশে থাকা ভারতের পাঁচ মিশন হল ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থিত চারটি সহকারী হাইকমিশন। সাধারণত অস্থিতিশীল বা বিপজ্জনক বলে মনে করা হয় এমন একটি দেশে বা স্থানে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্ব–সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ভারতে ফিরতে বলা হয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মধ্যে উভয় পক্ষই তাদের মিশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। ১২ ডিসেম্বর ছাত্র নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, 'আমরা ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর চরমপন্থীদের দ্বারা বারবার আক্রমণের একটি বিরক্তিকর ধরণ প্রত্যক্ষ করছি। এগুলিকে ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বলে দায়ী করার বাংলাদেশের প্রবণতা রয়েছে। এই ধরনের অবহেলা কেবল অপরাধীদেরই উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে আরও ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।'