'১৯৮০-র দশক থেকেই চিন অরুণাচল প্রদেশে ধীরে ধীরে এলকা দখল করছে। তৈরি করছে একের পর এক গ্রাম। এটা কোনও নতুন বিষয় নয়।' মঙ্গলবার, এভাবেই তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওঠা ঝড় সমাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন বিজেপি সাংসদ তাপির গাও (Tapir Gao)। কিন্তু, তাতে ঝড়ের বেগ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন - লাদাখের পর এবার অরুণাচলে ড্রাগনদের নজর, তৈরি হয়েছে একটি আস্ত গ্রাম

সোমবার, বিজেপি (BJP) সাংসদ তাপির গাও অভিযোগ করেছিলেন, অরুণাচল প্রদেশের গভীরে, ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে চিনারা গত বছর একটি গ্রাম তৈরি করেছে। সেই গ্রামে ১০১টি বসতবাড়ি এবং একটি একটি বাজার রয়েছে। দুই লেনের একটি রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এরপরই তাঁর এই দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। গত আট মাস ধরে পূর্ব লাদাখ সীমান্তের বিরোধকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর এই অভিযোগ নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা।

উপগ্রহ চিত্রে চিনা গ্রাম

বিশিষ্ট কংগ্রেস (INC) নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম (P Chidambaram) টুইট করে বলেন, যদি তাপির গাও-এর অভিযোগ সত্যি হয়, তবে বিতর্কিত অঞ্চলকে চিনা নাগরিকরা স্থায়ী বসতিতে রূপান্তর করেছে। অর্থাৎ চিনারা এলাকাটির স্থিতাবস্থার পরিবর্তন করেছে। এই ঘটনা সম্পর্কে মোদী সরকার-এর উত্তর দাবি করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

এদিন, সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তাপির গাও বলেছেন, ১৯৮০ এর দশকে যখন রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ই চিন অরুপণাচল প্রদেশের তাওয়াং জেলার 'সুমডোরং চু' (Sumdorong Chu Valley) উপত্যকা দখল করেছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান সেই এলাকা পুনর্দখলের জন্য একটি অভিযানের পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি সাংসদের দাবি, রাজীব গান্ধী সেই অভিযানের অনুমতি দেননি। সেই সময় থেকেই চিনারা অরুণাচলের এলাকা দখল করে চলেছে।

আরও পড়ুন - আরও এক যুগান্তকারী সাফল্যের সামনে বিআরও, শুরু হল বিশ্বের সর্বোচ্চ সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ

অরুণাচলের বিজেপি সাংসদ তাপির গাও

সোমবার বিজেপি সাংসদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতের সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত সমস্ত উন্নয়নের বিষয়ে তাদের অবিচ্ছিন্ন নজরদারি রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে চিনারা যেমন পরিকাঠামো নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ভারতও তেমনই রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণসহ সীমান্তের নিকটে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন - মাত্র ৯ মাসেই ৩টি বানিয়ে ফেলল চিন, অরুণাচল সীমান্তে ভারী হচ্ছে ড্রাগনদের নিঃশ্বাস

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যটিকে বেজিং, দক্ষিণ তিব্বতের অংশ হিসাবে দাবি করে। ভারত বরাবরই তার বিরোধিতা করে এসেছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির সময়ে আবার ক্রমে হাওয়া গরম হচ্ছে অরুণাচলের।