পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চিনের সঙ্গে চলমান বিবাদের কেন্দ্রবিন্দু প্যাংগং তসোর উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ভারত ও চিন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এমনই মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। 

রাজথান সিং জানিয়েছেন, চিনা পক্ষ উত্তর তীরের তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে কিছুটা পিছনের দিকে সরে যাবে। তারা আটটি আঙ্গুল পিছিয়ে যাবে। আর ভারতীয় সেনা বাহিনী প্যাংগং-এর তিন নম্বর আঙ্গুলের নিকটবর্তী ধনসিং থাপা পোস্টে তাদের স্থায়ী ঘাঁটিতে থাকবে। প্যাংগং-এর দক্ষিণ তীরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘকালীন অবস্থান, সামরিক কমান্ডার ও কূটনীতিকগের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর এই সাফল্য এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। চিনের সঙ্গে আমাদের অবিচলিত আলোচনার ফলে প্যাংগং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীর অবরুদ্ধকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর চুক্তির পরই ভারত ও চিন দুটি দেশই পর্যায়ক্রনে সমন্বিত পদ্ধতিতে সেনা সরিয়ে নেমে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

রাজ্যসভায় নিজের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের অবস্থান জানাতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, সংসদের উচ্চ কক্ষকে তিনি আশ্বস্ত করতে চান যে শুধু আলোচনা আর পর্যালোচনাতেই আস্থা রাখছে না ভারত। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনাথ সিং আরও জানিয়েছেন, ২০২০ সালে এপ্রিল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ তীরে সকল অঞ্চলে দুটি দেশ যে নির্মাণকার্য চালিয়েছে সেই সব পরিকাঠামো সরিয়ে দেওয়া হবে। ভূমিগুলি পুনরুদ্ধার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন দুটি দেশই গতানুগতিক অঞ্চলে টহল সহ উত্তর তীরে সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখার বিষয়ে এক মত হয়েছে। 


রাজ্যসভায় রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, প্যাংগং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীরে এই নিষ্ক্রিয়তা গতকাল অর্থাৎ বুধবার শুরু হয়েছিল। গতবছর স্থবিরতা শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন রাজনাথ সিং। তবে এখনও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আসাম্যতা রয়েছে। আরও কিছু পয়েন্টে মোতায়েন ও টহল দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী দিনের আলোচনায় এই বিষয়গুলির ওপরেই জোর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

ভারতের মহাকাশচারীদের মহাকাশের মেনু কার্ড, রয়েছে খিচুড়ি থেকে বিরিয়ানি এমনকি আচারও ...

বেসরকারি সংস্থাকে দরাজ সার্টিফিকেট লোকসভায়, মোদী কথায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই হবে ...

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় রাজনাথ সিং বলেন উভয় পক্ষের প্রথম দিলে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা অর্জন করা উচিৎ আর দ্বিপাক্ষিক টুক্তি ও প্রোটোকলগুলি সম্পূর্ণ রূপে মেনে চলা উচিৎ। এখন অবধি চিনা পক্ষ ভারতে চিন্তাভাবনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি লাদাখে কঠোর পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য ভারতীয় সেনাদের ভয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। বলেছেন ভারত কখনই চিনের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়নি। একই সঙ্গে রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, চিনাদের এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ভারত। 

পূর্ব লাদাখ সেক্টরের কথা বলতে গিয়ে এদিন রাজনাথ পাকিস্তানকেও নিশানা করেন। তিনি বলেন পাকিস্তান অবৈধভাবে ভারতের জমি চিনকে দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভারত এজাতীয় ব্যবস্থা মেনে নিতে নারাজ। অন্যদিকে চিনও ভারতের দখলে থাকা বৃহৎ ভূখণ্ড দাবি করেছে। যা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। 


রাজনাথ রাজ্যসভায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে লাদাখে চিন একতরফা ভাবে অগ্রসর হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির পরেও চিন বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে পূর্ব লাদাখ সেক্টরে মোতায়েন করতে পারে। পাল্টা ভারতও দেশের সার্বভৌমিকতা ও অখণ্ডতা বাজায় রাখতে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।