নীতিশ কুমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে এবার কিছুটা হলেও চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছেল বিহারের দুই যুব নেতা। একজন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব। আর অন্যজন লোকজনশক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ান। নির্বাচনের কিছুদিন আগে চিরাগ নীতিশ কুমারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। সেইমত শতাধিক আসনে প্রার্থীও দিয়েছেন। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরীক্ষার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রথম দফা নির্বাচনের দিনেই তাঁর দলের মুখমাত্র সঞ্জয় সরাফ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন চিরাগের নেতৃত্বে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে যথেষ্ট ভালো ফল করবে লোক জনশক্তি পার্টি। 

প্রশ্নঃ আগামী ৫ বছরের জন্য বিহারে কে রাজত্ব করবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে দিয়েছে বিহারের বাসিন্দারা। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে লোকজনশক্তি পার্টির অবস্থান কী? 
সঞ্জয় সরাফঃ 
আমরা ভালো ফল করব। চিরাগের লক্ষ্য বিহার প্রথম, বিহারি প্রথম এই স্লোগান ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করেছে। বিহারের যুবকরা চিরাগের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। বিহারের ৬০ শতাংশ যুবক আমাদের পাশে রয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে আর দেখতে রাজি নয়।

প্রশ্নঃবিজেপির সঙ্গে এলজেপির সম্পর্ক এখনও ভালো, কিন্তু জেডিইউ-র সঙ্গে কেন সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে?
সঞ্জয় সারাফঃ বিহারের বাসিন্দাদের নূন্যতম কমন মিনিমান প্রোগ্রামের লক্ষ্যেই চিরগের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল বিহার প্রথম বিহারি প্রথম ক্যাম্পেন শুরু করেছে এলজেপি। যার নেতৃত্বে রয়েছে চিরাগ পাসোয়ান। কিন্তু এটা কখনই চায়না জনতাদল ইউনাইটেড। কিন্তু আবার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ একই কাজ করে থাকেন। তাঁরা চিরাগের এজাতীয় কাজ দেখে খুব খুশি হয়েছেন। কিন্তু নীতিশ কুমারকে এজাতীয় কাজ করার তথ্য যখনই দেওয়া হয়েছে তখনই তিনি হতাশ রয়েছেন। আর সেই কারণেই এলজেপির সঙ্গে বিরোধ বেড়েছে এলজেপির। 

প্রশ্নঃ বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতিশ কুমারকে আর একবার দেখতে কী এলজেপি চায় না? 
সঞ্জয় সারাফঃ একদম তাই, কিন্তু এই সময় আমরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য লড়াই করছিল না। মুখ্যমন্ত্রীর পদ দখল করার জন্য আমরা কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি। বিজেপির থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে চেয়েছি আমরা। কারণ এই দায়িত্ব সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন নীতিশ কুমার। যেমন বন্যার পর ৪০ শতাংশ মানুষ বাড়ি হারিয়েছেন। দিনের পর দিন তাঁদের বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি নীতিশ কুমারকে। ৪০ শতাংশ বিহারের জন্য কোনও রকম চিন্তা করে না নীতিশ কুমার। তাই আমরাই নীতিশ কুমারের পাশে থাকা থেকে বিরত রয়েছে। চিরাগ যুবনেতা। তাঁর সামনে উজ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাই তিনি কেন নীতিশ কুমারের মত নেতাকে সমর্থন করবেন। 

প্রশ্নঃ চলতি নির্বাচনে বিহার যুবনেতাদের তেজ দেখছে। আপনি কী মনে করেন,চিরাগ পাসোয়ান তেজস্বী যাদবকে চক্কর দিতে সক্ষম হবে?
সঞ্জয় সারাফঃ চিরাগ আর আরজেডির মধ্যে একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। আরজেডি জাতপাতের ভিত্তিতে কাজ করে। তবে তেজস্ব যে গোটা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাতে কোনও মতপার্থক্য নেই। কিন্তু এক থেকে দেড়বছর আগে থেকেই চিরাগ ভিশন ডকুমেন্ট বিহার প্রথম বিহারি প্রথম চালু করেছে। আমরা বিহারের যুবদের নিয়ে কাজ করতে চাই। হিন্দু মুসলিম, যাদব, ব্রাহ্মণ নিয়ে ভাগাভাগি করতে চাই না। কিন্তু আরজেডি মুসলিম আর যাদব ভোটের লক্ষ্যেই করে যায় বরাবরই। 
দ্বিতীয়ত আরজেডি একটা সময় নীতিশ কুমারের জোট সঙ্গী ছিল। তারাও ক্ষমতা ভোগ করেছে। প্রথম দুবছর উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন চিরাগ পাসোয়ান। আর আগে ক্ষমতায় ছিলেন লালু প্রসাদ যাদব। কিন্তু সেই সময় তাঁরা উন্নয়নের কোনও কাজ করেনি। নীতিশ কুমারের আমলেও উন্নয়ন থেমে গেছে।

প্রশ্নঃ এজেপি জেডিউকে আঘাত করেই চলেছে, কিন্তু বিজেপি বলছে নীতিশ কুমারই তাদের নেতা। এবিষয় আপনি কী বলবেন?

সঞ্জয় সারাফ, এই সময় দাঁড়িয়ে বিজপি নীতিশ কুমারের পক্ষে সওয়াল করতে বাধ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তার পক্ষে সওয়াল করছেন। কিন্তু তিনি নিজের জন্য কিছুই তকঠেব না। লালু যাদব জমানার পর প্রথম পাঁচ বছর নীতিশ কুমার কাজ করেছিলেন। কিন্তু তারপর দুই বার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও তিনি কিছুই করেননি। 

 প্রশ্নঃ আর সেই কারণেই চিরাগ ও অন্যান্যরা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতিশ কুমারকে দেখতে চান না? 
সঞ্জয় সারাফঃএকদমই, নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে দেখতে চাই না। তবে বিজেপির কথা বলতে পারব না। তারা একটি আলাদা দল। তাদের সঙ্গে আমাদের রাজনীতির কোনও মিল নেই। 

প্রশ্নঃ রাজনীতিতে কোনও কিছুই স্থির নয়। আরজেডি বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তেমন কোনও প্রস্তাব যদি আসে? 
সঞ্জয় সারাফঃ এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। আর তাদের সঙ্গে যাওয়ার বিষয়েও আমরা উৎসাহী নয়। আমরা এনডিএর সঙ্গে আছি আগামী দিনেও থাকব। 

প্রশ্নঃ রামবিলাশ পাসোয়ানেরে শূন্য পদের দায়িত্ব পেয়ে চিরাগ কী মন্ত্রিসভায় যেতে পারেন ? 
সঞ্জয় সারাফঃ এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আমরা কোনও দাবি জানাইনি। এটি প্রধানমন্ত্রীর ওপরেই ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের তরফ থেকে কোনও দাবি নেই। বিজেপি যদি চিরাগকে যোগ্য মনে করে তাহলে তারাই তাঁকে দায়িত্ব দেবে। এই বিষয়ে এলজেপি কিছুই বলবে না।