দিল্লির একটি আদালত শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কথিত নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কনট প্লেসে একটি মিছিলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার সময় তাঁকে আটক ও পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

দিল্লির একটি আদালত শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কথিত নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কনট প্লেসে একটি মিছিলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার সময় তাঁকে আটক ও পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জানা গেছে, আদালত তাঁকে ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিতে বলেছে। দীপকে ছাড়াও শুক্রবার আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সভাপতি নেহা বোরা। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়, অন্যদিকে অভিজিৎ দীপকেকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (ত্রিরঙা উত্তোলন) কর্মসূচির আগে তাঁদের উভয়কেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাস্বরূপ আটক করা হয়েছিল। তবে, তাঁদের অনুপস্থিতিতেও অন্যান্যরা জাতীয় পতাকা হাতে ছোট ছোট মিছিল বের করেন। পুলিশের দাবি, দিল্লি পুলিশ আইনের অধীনে আটক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকেকে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-র ১২৬ ও ১৭০ ধারায় শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে নতুন একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এর আগে, ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি বিমান থেকে দীপকেকে আটক করা হয়েছিল এবং তখন তাঁর বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে একটি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সে সময় তাঁকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। এদিকে, মুক্তি পাওয়ার পর নেহা বোরা দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এই আটকের ঘটনাকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। এছাড়া, তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানান। নেহা বলেন, "আমাকে মান্ডি হাউস থেকে আটক করা হয় এবং সারা রাত—ভোর ৫টা পর্যন্ত—এখানে (থানায়) আটকে রাখা হয়। আপনারা (পুলিশ) কেন এভাবে বেআইনিভাবে মানুষকে আটক করছেন? দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এসব ঘটছে, আর এই প্রতিবাদ আন্দোলন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের আটকাদেশ নিয়মিতই চলছে। এই আন্দোলন বিষয়টিকে সবার সামনে নিয়ে এসেছে। তারা দাবি করে যে তারা আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে, কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই ঘটছে না।"

নির্বাচন কমিশন (EC) দাবি করছে যে, তাদের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত আগেই সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি—বিরোধী দল, সিজেপি (CJP) এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে চলমান এই প্রতিবাদ আন্দোলনকে 'বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত' এবং 'নৈরাজ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা' বলে অভিহিত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পার্কের ভেতরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-কে মোতায়েন করা হয় এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।