নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে CJP-র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হল। CJP-র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে CJP-র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হল। CJP-র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২১ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের সহ-সমন্বয়ক অশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।

এর আগে ১৪ অক্টোবর তাঁদের পাঁচদিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে—যা সম্প্রতি প্রতিবাদস্থল হিসেবে সরকারি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—সেখানে তালাবদ্ধ গেট টপকে প্রবেশ করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ১৩ অক্টোবর তাঁদের আটক করা হয়েছিল এবং পরের দিন পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পুলিশের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিক্ষোভস্থলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের পাশাপাশি তাঁরা আগে দেওয়া শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্তও লঙ্ঘন করেন। এরপর ১৪ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দু’জনকেই রাখা হয় তিহাড় জেলে।

জামিনের শুনানি ঘিরে জটিলতা

এর পর থেকেই দুই নেতার মুক্তি নিয়ে আইনি টানাপড়েন চলছে। CJP-র তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, জামিনের প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের মুক্তির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মামলার শুনানি ঘিরে আরও জটিলতা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান। বিচারককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।

এবার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ল। ফলে তাঁদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আপাতত কাটছে না। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এর আগে দুই নেতার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে।