মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী বিমানে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক ও তাঁর অনুগামীদের স্লোগান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা। যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক সহযাত্রী।
শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মী অভিজিৎ দিপক ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ফ্লাইটের ভেতর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চরম বিরক্ত এক সহযাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "এরা নিশ্চয়ই 'ককরোচ', তাই এমন আচরণ করছে।" তাঁর অভিযোগ, বিমান অবতরণের পর যাত্রীদের ভেতরেই আটকে রাখা হয় এবং স্লোগান দিয়ে হয়রানি করা হয়।
ওই যাত্রী বিমান থেকে নামার পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি জানান, বিমান মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামনের দিকের আসনগুলো থেকে স্লোগান শুরু হয়। এতে যাত্রীদের অনেকটা সময় নষ্ট হয় এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ককরোজদের নিয়ে বিরক্ত বিমানের যাত্রী
ওই যাত্রী বলেন, "আমরা মুম্বাই থেকে আসছিলাম। বিমান ল্যান্ড করার পরও আমাদের অপেক্ষা করতে হয়। তখন সামনের দিক থেকে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগান শোনা যাচ্ছিল। আমি জানি না এই দিপকে। এরা নিশ্চয়ই 'ককরোচ', তাই এমন করছে। এর আগে ওরা ৩৬ দিন ধরে ধর্নায় বসেছিল। কিন্তু তাই বলে কি সব জায়গায় এভাবে মানুষকে হয়রানি করবে? এই গুটি কয়েক মানুষের জন্য সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।"
তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে এভাবে সাধারণ মানুষকে বিরক্ত করার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেটানো উচিত, যাত্রীদের হয়রানি করে নয়।
সহযাত্রী আরও বলেন, "যদি সত্যিই অন্যায়ভাবে কারও নাম বাদ গিয়ে থাকে, তবে সুপ্রিম কোর্ট সেটা দেখবে। এরা (বিক্ষোভকারীরা) তো আর বিচার করবে না। সাধারণ মানুষই যদি সব করে, তাহলে আদালতগুলো বন্ধ করে দিন। আমরা একটা সিস্টেম মেনে চলি, তাহলে সেই সিস্টেমটাই তুলে দিন। কোনো সমস্যা হলেই কি এভাবে বিক্ষোভ দেখাতে হবে? এতে কি কোনো লাভ হয়?"
বিমানে আটক অভিজিৎ দিপকে
এদিকে, টার্মিনাল ৩-এও চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। 'যন্তর মন্তর ২.০' বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি আসছিলেন দিপক। তাঁর দাবি, বিমান অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ নিয়ে সিজেপি নেতা ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে তুমুল বচসা বাধে। সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দিপক ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশ তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের আটক করার চেষ্টা করে।
দিপককে ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, "আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের গ্রেপ্তার করতে দিল্লি পুলিশ সোজা বিমানের ভেতর ঢুকে পড়েছে। আমরা সবেমাত্র ল্যান্ড করেছি। আর পুলিশ অফিসাররা বিমানের আইলে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা বিমানের ভেতর থেকেই আমাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে। পুরো দিল্লি পুলিশ যেন বিমানে উঠে পড়েছে... এটাই নরেন্দ্র মোদির ভয়... জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমনটা করেননি। আমরা শুধু একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম, আর ওরা আমাদের অপরাধীদের মতো ফ্লাইট থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।"
দিপক আরও বলেন, "দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা বুঝতেই পারছেন। ওরা সরাসরি ফ্লাইট থেকে আমাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছে। এমন কাজ ইন্দিরা গান্ধীও করেননি। এটা পুরোপুরি স্বৈরতন্ত্র। দিল্লি পুলিশ ফ্লাইটে ঢুকে আমাদের ধরার চেষ্টা করছে। আসুন, আমাদের গ্রেপ্তার করুন। আমরা তো গ্রেপ্তার হতেই এসেছি... আমরা আপনাদের ভয় পাই না।"
সিজেপি আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের কোনো আইনি বৈধতা নেই জানিয়ে কর্মীদের আটক করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।


