হোলির দিন রং বদলালেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ামোদীর সঙ্গে আলোচনার পরই কংগ্রেস ছাড়লেন তিনিপদত্যাগের পরই তাঁকে বহিষ্কার করল কংগ্রেস-ওসিন্ধিয়ার বিদায়ের পিছনে বিজেপির টোপ-রাজনীতিকে দায়ী করলেন অধীর চৌধুরী

মঙ্গলবার হোলির দিন রং বদলালেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে ১৮ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে দিলেন তিনি। অবশ্য তিনি পদত্যাগ করার পরপরই তাঁকে বহিষ্কার করল কংগ্রেস-ও। এদিন কংগ্রেস সবানেত্রী সনিয়া গান্ধীর বাড়িতে এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল ও অন্যান্য নেতারা আলচনার পর সিন্ধিয়াকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। সিন্ধিয়ার বিদায় বড় ক্ষতি মেনে নিয়ে কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা এর জন্য বিজেপির টোপ দেওয়া রাজনীতিকে দায়ী করলেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মধ্যপ্রদেশে গত কয়েকদিন ধরেই চূড়ান্ত রাজনৈতিক নাটক চলছিল। সোমবার জ্যোতিরাদিত্য ঘনিষ্ঠ ২০ জনেরও বেশি বিধায়ক উধাও হয়ে যাওয়াতে এই টানাপোড়েন আরও বাড়ে। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহ-এর সঙ্গে দেখা করার পরই সিন্ধিয়া দল ছাড়ার কথা জানান। জ্যোতিরাদিত্যের বিদায় কংগ্রেসের পক্ষে বড় ক্ষতি বলে মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

Scroll to load tweet…

এদিন তিনি বলেন, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেস দলে অনেক বড় বড় পদে ছিলেন। দলে খুব সম্মান-ও পেতেন। অধীরের দাবি সম্ভবত নরেন্দ্র মোদী তাঁকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই লোভেই দল ছাড়লেন তিনি। সিন্দিয়া পরিবারের অনেকেই কয়েক দশক ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত জানিয়েও তাঁর বিদায় দলের বড় ক্ষতি বলেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকারও টিকবে না বলেই মত প্রকাশ করেছেন অধীর। বিরোধী দলের সরকারকে পরাজিত ও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করাটাই বিজেপির বর্তমান রাজনীতি, এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রবীন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রমাণ আছে, যে তিনটি চার্টার্ড বিমানে কংগ্রেস বিধায়কদের বেঙ্গালুরুতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার ব্যবস্থা বিজেপিই করেছিল। এটা মধ্যপ্রদেশের মানুষদের জনমতকে বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে তিনি দাবি করেছেন। কমল নাথ মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন এই প্রবীন নেতা।

মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে জ্যোতিরাদিত্ব দাবি করেন, কংগ্রেসে থেকে তিনি নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী দেশ ও তাঁর রাজ্যের সেবা করতে পারছেন না। তাই সরে যেতে চান। এদিন তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা সম্পর্কে কিছু না জানা গেলেও মনে করা হচ্ছে তিনি গেরুয়া শিবিরে য়োগ দিতে পারেন, অথবা নিজে আলাদা দল গড়ে বিজেপির সমর্থনে মধ্যপ্রদেশে নতুন সরকার গড়তে পারেন।