কর্নাটকে ক্রমশই কোণঠাসা হচ্ছে কুমারস্বামী সরকার। আর তার সঙ্গে কংগ্রেস- জেডিএস জোট সরকার টিকে থাকার সম্ভাবনাও কমছে। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের হোটেল থেকে বিদ্রোহী কংগ্রেস এবং জেডিএস বিধায়কদের নিয়ে গোয়ার একটি রিসর্টে চলে গিয়েছেন বিজেপি-র এক নেতা। পদত্যাগী বিধায়কদের ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলেছে। যাতে বিদ্রোহী বিধায়কদের মন্ত্রী করে সরকার বাঁচিয়ে রাখা যায়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

আরও পড়ুন- পদত্যাগ করলেন দাপুটে কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া

কংগ্রেস এবং জেডিএস- এর যে চোদ্দজন বিধায়ক শনিবার পদত্যাগ করেছিলেন, তাঁরা মুম্বইয়ের একটি হোটেলে ওঠেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরও এক নির্দল বিধায়ক। এর পর সোমবার বিকেলেই মুম্বইয়ের বিজেপি-র যুব মোর্চার এক নেতা বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে বাসে করে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাতের মধ্যেই তাঁরা সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। বিজেপি-র এক নেতা দাবি করেছেন, এই বিধায়কদের সঙ্গে আরও চার- পাঁচজন বিধায়ক যোগ দিতে পারেন। আবার বেঙ্গালুরুতে জেডিএসও তাঁদের বিধায়কদের একসঙ্গে একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। 

পদত্যাগী বিধায়কদের মন্ত্রী করে সরকার বাঁচাতে কংগ্রেসের ২২জন মন্ত্রী ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগী বিধায়করা তাতেও বিজেপি-কে সমর্থন করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা যায়, তা ঠিক করতে গোপন ডেরায় আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সিদ্দারামাইয়া-সহ কর্নাটক কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক রামলিঙ্গ রেড্ডির সঙ্গে এ দিন গোপন এক জায়গায় বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীও। 

বিজেপি নেতারা নিশ্চিত, কর্নাটকে কংগ্রেস- জেডিএস জোট সরকারের পতন নিশ্চিত। তাই এখনই সরকার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে তাঁরা যাচ্ছেন না। পদত্যাগ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীকে সময় দিতে চান তাঁরা। সবমিলিয়ে কর্নাটকের জট আরও জটিল হচ্ছে। রাহুলের পদত্যাগের পরে কার্যত অভিভাবকহীন কংগ্রেস কীভাবে এই সংকট সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার।