কেসি ভেনুগোপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে শুধুমাত্র জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দলের মিশে যাওয়া নিয়ে কোনও কথা হয়নি। তিনি বলেন, "এগুলো ভিত্তিহীন গুজব। টিএমসি ও কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বৈঠকটি ছিল মূলত জাতীয় ইস্যুগুলোকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনার জন্য।"
কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, এই দাবি করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়। যদিওএ বৃহস্পতিবার কংগ্রেস এই জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে এবং এ ধরনের খবরকে ভিত্তিহীন গুজব বলে অভিহিত করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে শুধুমাত্র জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দলের মিশে যাওয়া নিয়ে কোনও কথা হয়নি। তিনি বলেন, "এগুলো ভিত্তিহীন গুজব। টিএমসি ও কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বৈঠকটি ছিল মূলত জাতীয় ইস্যুগুলোকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনার জন্য।"

'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের বৈঠকের পর জল্পনা বৃদ্ধি
সোমবার নয়াদিল্লিতে 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণের পর তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য মিশে যাওয়ার জল্পনা জোরদার হয়। এরপর তাঁরা উভয়েই কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সনিয়া গান্ধী এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে খুব একটা নিয়মিত অংশ নেননি। প্রায়শই তিনি দলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সিনিয়র নেতাদের পাঠাতেন। ২০২৩ সালের জুন মাসে পাটনায় বিরোধী জোটের বৈঠক এবং পরবর্তীতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বৈঠকেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় মাত্র ৮০টি আসন পেয়ে ক্ষমতা হারানোর ঠিক এক মাস পরেই এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দলের বিধানসভা ও সংসদীয় শাখার মধ্যে বিভাজনের খবরও সামনে এসেছে। তবে তৃণমূল আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সহযোগিতা জোট নাকি মিশে যাওয়ার রূপ নেবে, তা দেখার বিষয়।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের বিধানসভা দল নিশ্চিতভাবেই কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে না। সংসদের সাংসদদের মধ্যেও—যাঁদের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি—তাঁরাও কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন না। তাহলে, কে কার সঙ্গে মিশছে?"
