পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আবেদন শোনার জন্য যে SIR ট্রাইব্যুনালগুলি রয়েছে, সেগুলি কীভাবে কাজ করছে, তার বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর করা একটি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলার সময় ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গেছে, সেই সংক্রান্ত কতগুলো আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসেব জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহানার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর করা একটি আবেদনের ভিত্তিতেই এই শুনানি। অধীরবাবুর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লকে SIR ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হোক, যাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে মানুষ সহজে আবেদন করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন SIR ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অন্য কোনও বিষয় খতিয়ে দেখার আগে তারা প্রথমে জানতে চায়, বর্তমানে যে ট্রাইব্যুনালগুলো আছে, সেখানে কী পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে। আদালত বলে, "আগে নিষ্পত্তির পরিমাণটা দেখি।" বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে, এখন রাজ্যে মোট কতগুলো ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, তাদের কাজের সময় কী এবং কতগুলো আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে।
শুনানির সময় আবেদনকারীর তরফে আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। তবে আদালত জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা কোনও সময়সীমা ঠিক করতে পারবে না। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "সময়সীমা? সেটা আমরা এখন ঠিক করতে পারি না। আগে পরিমাণটা দেখি এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তগুলো কতটা সঠিক, সেটাও দেখতে হবে।"
বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, এই তথ্য হাতে পেলে ট্রাইব্যুনালগুলির কাজের চাপ এবং কার্যকারিতা বুঝতে সুবিধা হবে। তারপরই পরবর্তী কোনও নির্দেশের প্রয়োজন আছে কিনা, তা ঠিক করা হবে।
পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রশ্ন
অন্য একজন আবেদনকারীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দেয়, পরিকাঠামো বা অন্য কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে তারা মামলার নিষ্পত্তির তথ্যই প্রথমে খতিয়ে দেখবে।
শুনানিতে আরও একটি বিষয় উঠে আসে। অভিযোগ করা হয়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর, আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই অনেকে রেশন বা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি কোনও সামাজিক সুবিধা দিতে অস্বীকার করে, তবে সেই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যেতে হবে। আদালত বলে, "পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সামাজিক সুবিধা না দেয়, তবে সেই মামলা হাইকোর্টে যাওয়াই উচিত।"
আদালত আরও স্পষ্ট করে যে, আবেদনকারী যদি এই মামলায় সামাজিক সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে তার জন্য সঠিক রাস্তা হলো হাইকোর্টে যাওয়া।
সেই অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে SIR ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তি করা আপিলের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অধীর চৌধুরীর আবেদনে বলা হয়েছে, ব্লক স্তরে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হলে মানুষের সুবিধা হবে, কারণ এখন ট্রাইব্যুনালগুলো অনেক দূরে হওয়ায় আবেদনকারীদের যাতায়াতের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশের লক্ষ্য হল, বর্তমান ট্রাইব্যুনালগুলিতে কতগুলো আপিল জমা পড়েছে এবং কতগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার একটা স্পষ্ট চিত্র পাওয়া।


