মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন মহা বিকাশ আগ্রাদি জোটের তিন পক্ষ - শিবসেনা, এনসিপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের জল্পনা চলছে। তারমধ্য়েই ফাটল রীতিমতো আরও বাড়িয়ে তুললেন রাহুল গান্ধী। সোমবার গভীর রাতে মাতশ্রীতে গিয়ে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেন। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর কোভিড সংকট মোকাবিলার কৌশল বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী। তারপরদিনই কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী সেই রাজ্যের কোভিড সংকটের দায় ঝেড়ে ফেললেন।

মঙ্গলবার অনলাইনে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন রাহুল। প্রথম থেকে বৈঠক বেশ ভালোই চলছিল। রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র যথেষ্ট সাহায্য করছে না। লকডাউনের কৌশল কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। তারপর তাদের পরবর্তি পপরিকল্পনা কী? এরকম নানাবিধ অভিযোগ করেন রাহুল। কংগ্রেস যে যে রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, সেখানে সেখানে পরবর্তী পরিকল্পমনা তৈরি বলেও জানা। কিন্তু তাল কাটল মহারাষ্ট্র প্রসঙ্গ উঠতেই।

ভারতের সবচেয়ে করোনা-ধ্বস্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র। দেশের সম্মিলিত করোনা রোগীর একটা বড় অংশ মহারাষ্ট্রেরই। তাহলে সেখানে রাহুলের পরামর্শ কাজে আসছে না কেন? সেখানে তো সরকারে অংশ তারা।

এর উত্তরে রাহুল জানালেন, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস একা সরকার চালায় না, 'সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী' নয় তারা। সেই রাজ্যে কংগ্রেস সরকারকে 'সমর্থনকারী' একটি দল মাত্র। সরকার চালানো এবং সমর্থন করার মধ্যে 'পার্থক্য' রয়েছে। কংগ্রেসের কৌশল কার্যকরী হচ্ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য পঞ্জাব, ছত্তিসগড়, রাজস্থান এবং পুদুচেরি-র মতো রাজ্যগুলির দিকে দেখতে হবে। তবে জনসংযোগের প্রাবল্যর জন্য মহারাষ্ট্রে সংক্রমণের হার এমনিতেই বেশি হওয়ার কথা বলেও যুক্তি দিয়েছেন তিনি। মহারাষ্ট্র দেশের প্রধান বানিজ্যকেন্দ্র। তাই যোগাযোগ অনেক বেশি। তাই সংক্রমণের ভয়ও বেশি।

তবে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আগাড়ি সরকারের অভ্যন্তরে ফাটল ধরেছে বলে জোর খবর। এই মুহূর্তে সেই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। উদ্ধব প্রশাসন যেভাবে এই সংকটের মোকাবিলা করছে তাতে সন্তুষ্ট নয় জোটসঙ্গী এনসিপি ও কংগ্রেস, এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। শিবসেনার পক্ষ থেকে অবশ্য এই ধারণা ভুল বলে প্রমাণের চেষ্টা চলছে। এনসিপির এক মন্ত্রীও এখনও পর্যন্ত এই খবর অস্বীকার করেছেন, এবং একে বিজেপির রটনাই বলেছেন। কিন্তু, রাহুল যেভাবে সরকার চালানো ও সমর্থন করার পার্থক্য করলেন, তাতে সবকিছু ঠিক আছে কিনা আগাড়ি সরকারে মধ্যে, তাই নিয়ে প্রশ্নটা জোরালোই হয়েছে।