মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাধ্বী প্রাচী বলেন, কুম্ভ মেলার এলাকা এবং হর-কি-পাউরিকে একটি “অমৃত ক্ষেত্র” হিসেবে ঘোষণা করা উচিত এবং সেখানে অ-হিন্দুদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। 

২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলার আগে হরিদ্বারের গঙ্গা ঘাটে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানালেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। এক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং পবিত্র শহরের পবিত্রতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা। ৪৫ দিনব্যাপী অর্ধকুম্ভ মেলাটি ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির দিনে শুরু হবে এবং মহাশিবরাত্রিতে শেষ হবে। রাজ্য সরকার আশা করছে, মেলায় ছয় থেকে সাত কোটি ভক্ত হরিদ্বারে আসবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাধ্বী প্রাচী বলেন, কুম্ভ মেলার এলাকা এবং হর-কি-পাউরিকে একটি “অমৃত ক্ষেত্র” হিসেবে ঘোষণা করা উচিত এবং সেখানে অ-হিন্দুদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন যে পবিত্র স্থানগুলিতে “জিহাদি কার্যকলাপ” চলছে। তিনি দাবি করেন যে এই ধরনের উপাদানগুলো বড় ধর্মীয় সমাবেশে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী দাবি এই নেত্রীর

ভিএইচপি নেত্রী বলেন, 'আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে দিল্লির কিছু মহিলা সম্প্রতি হরিদ্বারে এসে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে পবিত্র স্নান করেছেন। এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করা উচিত।' কুম্ভ এলাকায় 'জিহাদি উপাদানদের' প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য একটি আইন আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানান এই নেত্রী। এছাড়াও, এই অঞ্চলে অ-হিন্দুদের সম্পত্তি কেনার উপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপানোর দাবি জানান। মক্কা ও মদিনার মতো স্থানে অ-মুসলিমদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তুলনা টেনে সাধ্বী প্রাচী বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যাতে কোনও বাধা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হরিদ্বারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিয়ম প্রয়োগ করা উচিত। তিনি বলেন, হরিদ্বার এবং নগর পালিকা এলাকা প্রধানত হিন্দু অধ্যুষিত, এবং উৎসব ও স্নান কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই হওয়া উচিত।

দিল্লির সঙ্গে তুলনা

ভিএইচপি নেত্রী গত বছর দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাটিও উল্লেখ করেন, যেখানে ১৫ জন নিহত হয়েছিল এবং বলেন যে এই ঘটনার সঙ্গে চিকিৎসকরা জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, 'সেই উপাদানটি (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) সন্ত্রাসবদী হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। যদি এটি গঙ্গায় ছিটিয়ে দেওয়া হতো, যেখানে কোটি কোটি মানুষ স্নান করবে? এর গুরুতর পরিণতি হতে পারতো এবং অনেক প্রাণহানি ঘটত।' অবৈধ মাদ্রাসা, মাজার এবং ‘শিক্ষা জিহাদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির প্রশংসা করে সাধ্বী প্রাচী রাজ্য সরকারকে অর্ধকুম্ভ মেলার আগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তরাখণ্ড সরকার কুম্ভ এলাকাকে ‘অমৃত ক্ষেত্র’ ঘোষণা করতে এবং তীর্থযাত্রীদের কল্যাণের জন্য এই ধরনের নিয়মকানুন কার্যকর করতে সক্ষম।