মহামারির এই সংকটকালে আরও এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। ভোপালের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া হল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃতদেহ। এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ মৃতের পরিবার। মৃতের ছেলে জানিয়েছে এক হাসপাতাল থেকে যখন তাঁর বাবাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে তখনও বেঁচে ছিলেন তিনি। রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। তারপরই অ্যাম্বলেন্স থেকে রাস্তাতেই ফেলে দেওয়া হয় তাঁর বাবার মৃতদেহ। 

মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাসিন্দা ৫৭ বছরের ওয়াজিদ আলি। বেশ কয়েকদিন ধরেই সর্দিকাশির সমস্যায় ভুগছিলেন। করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল ভূপালের পিপিলস জেনারেল হাসপাতালে। করোনা পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় তিনি আক্রান্ত মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগে। তারপরই চিকিৎসকরা ৫৭ বছরের ওয়াজিদ আলিকে চিরায়ু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমত পরিবারের সদস্যদেরও জানান হয়। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মৃত্যু হয় ওয়াজিদ আলির। তারপরই মৃতদেহটি রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা যায় স্বাস্থ্য কর্মীদের। 

এই ঘটনা সামনে আসতেই দুটি হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসন একে অপের ঘাড়ে দায় চাপাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।মৃতের ছেলে আবিদ আলি জানিয়েছেন তিনি জানেন না অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কী হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন তাঁর বাবাকে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনেই এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীরা হাসপাতালের কাছেই রাস্তাতে ফেলে দেয় তাঁর বাবার দেহ। 

লকডাউনের ১০৫তম দিনে করোনা সংক্রমণে বিশ্বে তৃতীয় ভারত, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার ...

লকডাউনের ভারতে বেড়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা, কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ...

চিরায়ু হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল পিপিলস হাসপাতাল থেকে একটি ফোন এসেছিল। টেলিফোনের মাধ্যমেই তাদের জানান হয়েছিল করোনা আক্রান্ত একটি রোগী স্থানান্তরিত করা হবে। আক্রান্ত শারীরিক অবস্থা সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে পিপিলস হাসপাতাল জানিয়েছিল সমস্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাই চিরায়ু একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাস্তাতেই আক্রান্তের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে অ্যাম্বুলেন্সে দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছিল। তারপর চিরায়ু হাসপাতালের পক্ষ থেরে আরও উন্নত মানের অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক পাঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাতে আরও ২০ মিনিট সময় লাগবে বলেও জানান হয়েছিল। কিন্তু তারপর কী হয়েছে তা আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানে না বলে জানান হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুখ খোলা হয়নি। 

হাসপাতালের পাশে রাস্তায় যে করোনা রোগীর দেহ ফেলে যাওয়া হয়েছে তার সিসিটিভি উদ্ধার হয়েছে। ইতিমধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়।