টানা সাত দিন হয়ে গেছে। স্বস্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য। কারণ গত ৭ দিন ধরেই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে।  স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা দেশে আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৬২৪ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৪১ জনের। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাস মোট ১ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। 
এক ঝলকে দেখে নিন দেশের করোনা চিত্র। 

মোট আক্রান্ত  ১, ০০, ৩১, ২২৩

মোট মৃত্যু     ১, ৪৫, ৪৭৭

মোট সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা       ৯৫,৮০, ৪০২

দেশে অ্যাক্টিভ কেস ৩, ০৫, ৩৪৪

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৬,৬২৪
২৪ ঘণ্টায় মৃত      ৩৪১

দেশের করোনা গ্রাফ রীতিমত স্বস্তি  দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের। বিশ্বের অনেক দেশ যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে নাজেহাল তখনই অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে নাও পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনার দ্বিতীয় ঢেই যদিওবা আছড়ে পড়ে তবে তা প্রথমটির মত শক্তিশালী হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়়িয়ে গেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট শহিদ জামিল বলেছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরের আগে যেখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারের বেশি সেখানে বর্তমানে আক্রান্তের দৈনিক গড় ৩০ হাজারের নিচে পৌঁছে গেছে। তিনি আরও বলেন এই সময়টা দেশ জুড়ে উৎসব ছিল। একর পর এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকেই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারত। কতিন্তু তা হয়নি। আর কিছুটা হলেও নিশ্চিত হয়েছি যে দেশে করোনা সংক্রামণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কম রয়েছে। তিনি আরও বলেন এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বলা যেতে পারে, আমরা কিছুটা হলেও সুরক্ষিত রয়েছি। সংক্রমণের চেন ভাঙতে শুরু করেছে। চিকিৎসক জামিল বলেছেন, দেশের সংবেদনশীল মানুষদের এখনও পর্যন্ত বিপদ রয়েছে। তবে টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গলেও সেই আশঙ্কাও কেটে যাবে বলেও তিনি মনে করছেন। 

করোনার টিকা নিয়ে অ্যালার্জি শুরু, নতুন গাইডলাইন জারি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ...

শিখগুরু তেগ বাহাদুরকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, আচমকা সাতসকালে হাজির রাকাব গঞ্জে ...
বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল বিজ্ঞানী গগনদীপ কং-এর মতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লেও তা প্রথমবারের তুলনায় ততা শক্তিশালী হবে না। তিনি বলেন আমরা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করেছি। তাই সংক্রমণের ভয় অনেকটাই কম রয়েছে। পশ্চিমের দেশগুলিতে যেভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সেভাবে ভারতে পড়বে না বলেও তিনি দাবি করেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কেকে আরলওয়াল বলেন, দেশএর ৩০-৪০ শতাংশ মানুষ এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। করোনা আক্রান্ত প্রথম ১৫টি দেশের মধ্যে ভারত, আর্জেন্টিনা  আর পোল্যান্ড তিনটি দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। ভারতে সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে তবে তাতে মৃত্যুর হার অনেকটাই কম হবে বলেও তিনি দাবি করকেছেন। কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষই হার্ড ইমিউনিটি আর্জন করেছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে চিকিৎসকরা এখনও পর্যন্ত দেশের মানুষকে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথা বলার পাশাপাশি মাস্কের ব্যবহার করতে বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।