দেশে যেভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ তাতেই ক্রমেই বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাজ লম্বা হচ্ছে। এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে এমন এক ঘটনা ঘটল যা সকলকে চমকে দিয়েছে। মাত্র ১৬ দিনে একই পরিবারে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ৬ সদস্যের।

ধানবাদের কাটরাস এলাকায় সপ্তাহ দুয়েক আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৮৮ বছরের এক বৃদ্ধার। এরপরেই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন ওই মহিলার চার ছেলেও। সম্প্রতি বৃদ্ধার পঞ্চম সন্তানও করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাজারে আসার আগেই চাহিদা তুঙ্গে, না পাওয়া যাওয়ার ভয়ে আগেই ৯ কোটি ভ্যাকসিন কিনে নিল ব্রিটেন

এই ঘটনা সামনে আসতেই ধানবাদ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দারা যাতে বাড়ির বাইরে না যান সেই বিষয়ে বারবার সতর্ক করছে স্থানীয় প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ধানবাদের সীমানাও সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। 

একই পরিবারের ৬ সদস্যের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা কাটরাস এলাকা সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। এই অবস্থায় এলাকায় যাতে প্রতিটি সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয় তার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। জানা যাচ্ছে গত রবিবার রাতেই  রাঁচির রিমসে বৃদ্ধার পঞ্চম সন্তান করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারান। তার আগে চলতি মাসে বৃদ্ধার আরও ৪ সন্তানের প্রাণও মারণ ভাইরাস কেড়ে নেয়।

আরও পড়ুন:বর্ষার পর শীতেও আসবে আরও বড় বিপদ, আইআইটি-এইমসের গবেষণায় ঘনালো আশঙ্কার কালো মেঘ

জানা যাচ্ছে দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েই ৮৮ বছরের বৃদ্ধা করোনা আক্রান্ত হন। তাঁকে বোকারোর এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪ জুলাই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। কিন্তু কোরনা বিধি না মেনেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এদিকে বৃদ্ধাক থেকে ততক্ষণে অজান্তে তাঁর সন্তানদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরে গত ১৬ দিনে তাঁর ৬ সন্তানের মধ্যে ৫ জনেরই মৃত্যু হয়। 

ওই পরিবারের আরও ২ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও তাঁদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। আক্রান্ত ২ জনের বয়সও ষাটের উপরে। এদিকে ঝাড়খণ্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে ৬ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫। ঝাড়খণ্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২২৫ জন। ফলে রাজ্যে এখন সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ২,৮৮৯। ঝাড়খণ্ডে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে রাঁচিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের রাজধানী রাঁচীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন।