- Home
- India News
- Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর তাণ্ডব ১৬ জেলায়! এখন থেকেই বৃষ্টি শুরু উত্তাল হচ্ছে সমুদ্র
Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর তাণ্ডব ১৬ জেলায়! এখন থেকেই বৃষ্টি শুরু উত্তাল হচ্ছে সমুদ্র
Cyclone Arnab: পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১৬টি জেলায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব মোকাবিলায় তৈরি অন্ধ্রপ্রদেশ
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে এখন জোরকদমে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্য়েই বিক্ষিপ্তভাবে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টি।

বুধবার সকালেই ল্যান্ডফল অর্ণব-এর
গত ৬ ঘণ্টা ধরে এই ঝড় ২৫ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বুধবার সকালের মধ্যেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে ইয়ানামের কাছে 'অর্ণব' আছড়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে বিপজ্জনক ঝোড়ো হাওয়া বইবে।
বর্তমানে অর্ণব-এর অবস্থান
ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) এবং অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (APSDMA) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বিশাখাপত্তনম থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে এই ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করছিল। এছাড়া কাকিনাড়া থেকে ৩৬০ কিলোমিটার, মছলিপত্তনম থেকে ৪৬০ কিলোমিটার এবং বাপাতলা থেকে ৫৩০ কিলোমিটার দূরে 'অর্ণব' অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর গতিপথ
এপিএসডিএমএ (APSDMA)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রখর জৈন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঝড় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোবে। এরপরই সেটি দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পশ্চিম দিকে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসবে।
অর্ণব-এর কারণে সতর্কতা জারি
এদিকে, বিশাখাপত্তনমে ইতিমধ্যেই হালকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় প্রশাসন সেখানে 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে। আগামী ৩ ঘণ্টার মধ্যে শ্রীকাকুলাম, বিজয়নগরম এবং অনাকাপল্লির মতো জায়গাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
IMD-র সতর্কতা
আইএমডি (IMD) সতর্ক করেছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় 'অর্ণব' আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতেই এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। সেসময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি হাওয়া অফিস উপকূলের বেশ কিছু জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
অর্ণব-এর সরাসরি প্রভাব ১৬টি জেলায়
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬টি জেলার ওপর এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে ২,৪৬০টি গ্রাম এবং ৯২টি শহরাঞ্চল রয়েছে।
উদ্ধারকাজে সক্রিয় প্রশাসন
প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে সবরকম ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। ইতিমধ্যেই ১,৭৬৩টি সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা ও মণ্ডল স্তরে ২,৯০৭টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আর মাঠে নেমে ত্রাণকাজ তদারকির জন্য ৩,১৮৫ জন নোডাল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ
বিপদের মুখে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ২,১০৭টি স্বর্ণ গ্রাম এবং স্বর্ণ ওয়ার্ড ইউনিটে কাজ শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি, উদ্ধার ও ত্রাণের কাজের জন্য ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) দল মোতায়েন করা হয়েছে।
মুদ্রে নামা নিষেধ
প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি সম্পত্তি বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সমুদ্রসৈকতে সাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে উপকূলবর্তী রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি
প্রশাসন মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে। যারা সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, তারা সবাই নিরাপদে ফিরে এসেছেন। মোট ৩০,০৪৩টি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার বন্দরে নিরাপদ জায়গায় নোঙর করে রাখা হয়েছে।
জরুরি পরিষেবা জারি থাকবে
জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানীয় জলের যাতে কোনও অভাব না হয়, তার জন্য ২,৬১৩টি জলের ট্যাঙ্কার তৈরি রাখা হয়েছে।
রাজ্য যখন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রস্তুত, তখন আধিকারিকরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

