Cyclone Arnab Updates: অতি তীব্র ঘূর্ণিজড়ে পরিণত হওয়ার পর ভূমিতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ওড়িশা (Odisha) ও অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) উপকূলে প্রভাব পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রাণহানি এড়ানো গেল না।
KNOW
Cyclone Arnab Landfall: অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশাখাপত্তনম (Vizag), আনাকাপাল্লে (Anakapalle), কাকিনাড়া (Kakinada), কোনাসীমা (Konaseema) এবং পশ্চিম গোদাবরী (West Godavari) জেলা থেকে মৃত্যুর খবর এসেছে। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department) জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এর রূপ নিয়েছিল অর্ণব। বুধবার সকাল ন'টা বেজে ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি তখন অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম (Yanam) উপকূলের উপর অবস্থান করছিল। সকাল সাড়ে আটটায় এটি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এ পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলে প্রবল বৃষ্টি
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছে গিয়েছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। নরসাপুর (Narsapur) থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানামের দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ৪০ কিলোমিটার, কাকিনাড়ার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ৬০ কিলোমিটার এবং মছলিপটনমের (Machilipatnam) পূর্ব-উত্তর-পূর্বে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে স্থলভাগে প্রবেশ করায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা (Odisha) ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগেভাগেই দুই রাজ্য মিলিয়ে এক লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে সর্বাধিক ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপাল্লেতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ওড়িশাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বিমান-রেল পরিষেবায় বিঘ্ন
ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী একাধিক বিমান বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি ট্রেনও। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বুধবার ও বৃহস্পতিবারও বজায় থাকতে পারে। ফলে এই দু’দিন অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর দুর্বল হতে শুরু করলেও প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আগামী দু’দিন সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।






