Dating App Fraud: দীর্ঘ সাত বছরের প্রতারণার জাল অবশেষে ভাঙল। দিল্লি পুলিশ-এর হাতে গ্রেফতার হল এমন এক প্রতারক, যে একা হাতে ৫০০-রও বেশি মহিলাকে ডেটিং অ্য়াপের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়ে গিয়েছে। ধৃতের নাম আনন্দ কুমার, বয়স ৩৫।
Dating App Fraud: দীর্ঘ সাত বছরের প্রতারণার জাল অবশেষে ভাঙল। দিল্লি পুলিশ-এর হাতে গ্রেফতার হল এমন এক প্রতারক, যে একা হাতে ৫০০-রও বেশি মহিলাকে ডেটিং অ্য়াপের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়ে গিয়েছে। ধৃতের নাম আনন্দ কুমার, বয়স ৩৫। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গত সাত বছর ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে হাতিয়ার করে একের পর এক মহিলাকে প্রতারণার শিকার করেছেন আনন্দ। ডেটিং অ্যাপ, ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, সব জায়গাতেই ছিল তার সক্রিয় উপস্থিতি। অবাক করার বিষয়, এত বড় প্রতারণা চক্র চালিয়েও তিনি কখনও কোনও ভুক্তভোগীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি।
ভুয়ো প্রোফাইল খুলে মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণার জাল
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারণার জন্য তিনি ৩০টিরও বেশি ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করেছিলেন। প্রতিটি প্রোফাইলে আলাদা পরিচয় ব্যবহার করতেন। কখনও নিজেকে ডাক্তার, কখনও চলচ্চিত্র প্রযোজক, আবার কখনও সফল ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিতেন। মূলত ধনী বা সচ্ছল বলে মনে হয় এমন মহিলাদেরই নিশানা করতেন তিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা ছিলেন মেট্রো শহরের বাসিন্দা।
কীভাবে করতেন প্রতারণা
প্রতারক প্রথমে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপরই শুরু হত আসল খেলা। নানা অজুহাতে, কখনও চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, কখনও ব্যবসায় ক্ষতির কথা বলে টাকা চাইতেন তিনি। আবেগের ফাঁদে পড়ে বহু মহিলা বড় অঙ্কের টাকা তার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। এমনই এক ঘটনায় দক্ষিণ দিল্লির এক মহিলা প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন। ওই ক্ষেত্রে আনন্দ 'বৈভব অরোরা' নামে পরিচয় দিয়েছিলেন। গত মার্চ মাসে দায়ের হওয়া এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আবার পুলিশের নজরে আসে তার নাম এবং শুরু হয় নতুন করে তদন্ত।
উদ্ধার কয়েক কোটি টাকা
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। বিভিন্ন বেটিং অ্যাপের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তার কাছ থেকে ৯টি সোনার গয়না পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও দিল্লি এবং গাজিয়াবাদে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন আনন্দ, তবে পরে জামিনে মুক্তি পান। এই ঘটনায় অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এল। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে পুলিশ।


