দিওয়ালি উপলক্ষে সিকিমের বাবা হরভজন সিং মেমোরিয়াল মন্দিরে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের নিরাপত্তায় অবিচল থাকার জন্য সেনা জওয়ানদের প্রশংসাও করেন।

সিকিমে মেমোরিয়াল মন্দিরে রাজনাথ সিং

রবিবার দিওয়ালি উপলক্ষে বাবা হরভজন সিং মেমোরিয়াল মন্দিরে যান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। যখন সারা দেশ আলোর উৎসবে মেতে উঠেছে, তখন দেশের সীমান্তে প্রহরারত জওয়ানরাও এই উৎসব পালন করছেন। পূর্ব সিকিমে অবস্থিত বাবা হরভজন সিং মেমোরিয়াল মন্দিরটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান হরভজন সিংয়ের স্মরণে তৈরি। এই অঞ্চলে কর্তব্যরত সেনাদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এই মন্দিরটি গভীরভাবে যুক্ত।

শহিদ বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

শেরাথাং ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, শহিদ বীরদের স্মরণে তৈরি এই সৌধগুলো আমাদের সর্বদা জাতীয় কর্তব্য ও ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (X) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর চিরস্থায়ী অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাঁরা দেশের সুরক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সাহসিকতার কাছে দেশ চিরকাল ঋণী এবং কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি লিখেছেন, "আজ দিওয়ালির এই পবিত্র দিনে, আমি সিকিমের শেরাথাং ওয়ার মেমোরিয়ালে আমাদের অমর বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। যেমন বলা হয়, 'স্মৃতিসৌধ জীবিতদের জন্য, মৃতদের জন্য নয়'; এগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করতে এবং আমাদের জাতীয় গর্ব জাগ্রত করতে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের সেবায় তাঁদের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ এক কৃতজ্ঞ জাতির স্মৃতিতে চিরকাল খোদাই করা থাকবে, আর তাঁদের সাহসিকতার কাছে আমরা চিরকাল ঋণী থাকব।"

সীমান্তে জওয়ানদের সঙ্গে কথা

এই সফরের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুর্গম সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁদের এই নজরদারিকে উৎসবের প্রদীপের সঙ্গে তুলনা করে, চরম আবহাওয়ার মধ্যেও দেশ রক্ষায় তাঁদের অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এই দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং সেক্টরে মোতায়েন আমাদের সাহসী জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করা এবং কথা বলার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। আমাদের জওয়ানরা নিজেরাই এক একটা 'প্রদীপ'-এর মতো, যাঁরা নীরবে অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করে দেশের প্রতিটি ঘরে নিরাপত্তার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। চরম আবহাওয়া ও কঠিন ভূখণ্ডেও তাঁদের অবিচল নজরদারি, অসীম দেশপ্রেম এবং উঁচু মনোবল হাজারটা প্রদীপের চেয়েও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে।”