সীমান্ত সমস্যা মেটাতে আজ ফের পূর্ব লাদাখের চুসুল-মলডো সীমানায় বৈঠকে বসল ভারত-চিন। মঙ্গলবার ভারতীয় অংশ চুসুলে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। বর্তমানে প্যাংগং লেক ও গালওয়ান উপত্যকায় বেশ কয়েক কিলোমিটার ভিতরে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে লাল ফৌজ।  দুপক্ষই সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ালেও নিয়মিত বৈঠকে বসে চলেছে। এর মধ্যেই বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে কথা বললেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

আরও পড়ুন: দেশে সুস্থতার হার বৃদ্ধি পেয়ে হল ৫৯ শতাংশ, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা জয়ী হলেন ১৩ হাজারের বেশি

গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তার পরেও বৈঠক বসছে দুই দেশ। ভারত ও চিনের মধ্যে কর্পস কম্যান্ডার স্তরে এটি তৃতীয় দফার বৈঠক। এর আগের দু'টি দফার বৈঠক হয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার চিনা অংশ, মোলডোতে। জানা গিয়েছে, সীমান্ত সমস্যা বিষয়ক দু-দেশের প্রস্তাবগুলি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সেখানে সমস্ত বিতর্কিত অঞ্চলগুলির প্রসঙ্গও উঠবে।

আরও পড়ুন: ফের বিশাখাপত্তনম জুড়ে আতঙ্ক, এবার ওষুধ কারখানায় গ্যাস লিক কাড়ল প্রাণ

১৪ কর্পসের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চিনের সামরিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন দক্ষিণ জিনজিয়াং সামরিক জেলা প্রধান মেজর জেনারেল লিউ লিন।এর আগের দু'টি কর্পস কম্যান্ডার-স্তরের বৈঠক হয়েছিল যথাক্রমে ৬ ও ২২ জুন। সূত্রের খবর, এদিন ভারত ও চিনের মধ্যে সেনা পর্যায়ের বৈঠক শুরুর আগে টেলিফোনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে কথা হয় রাজনাথ সিংয়ের। ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীই আলোচনা করেন। 

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনা আগ্রাসন নিয়ে মোটেই খুশি নয় আমেরিকা। ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সংঘর্ষকেও ভালো চোখে দেখছে না ট্রাম্পের দেশ। এমনকি চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্শে শহিদ হওয়া ভারতীয় জওয়ানদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব মাইক পম্পেও বলেই দিয়েছেন, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপিন্সের মতো এশিয় দেশগুলির উপর যেভাবে রণংদেহী মনোভাব নিয়েছে চিন তা যথেষ্টই উদ্বেগের। সেই কারণে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় সেনা পাঠানোর কথাও ঘোষণা করেছে আমেরিকা। 

যুদ্ধবাজ চিনকে শায়েস্তা করতে ও তাদের আগ্রাসী নীতিকে পাল্টা দিতে কোমর বেঁধেই নামতে চাইছে আমেরিকা। এই নিয়ে ভারতের মত আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গেও হাত মেলাচ্ছে আমেরিকা। চিনের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও।