Agni 6 Missile: অগ্নি-৬ সুপার মিসাইল প্রস্তুত, ভারত বিশ্বকে নিজের শক্তি দেখাতে যাচ্ছে
অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে চলেছে। এই ঘোষণার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নোটিস টু এয়ারমেন (নোটাম) জারি করা হয়, যা এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় একটি বড় পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত কিছুদিন আগে জানিয়েছেন যে, ভারত তার প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) অগ্নি-৬, পরীক্ষা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যার পাল্লা ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এ বিষয়ে সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এর কিছুদিন পরেই, বিজেপি তাদের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করে, যা থেকে একটি বড় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে চলেছে। এই ঘোষণার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নোটিস টু এয়ারমেন (নোটাম) জারি করা হয়, যা এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত সম্প্রতি একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে জানিয়েছেন যে অগ্নি-৬ কর্মসূচির জন্য প্রযুক্তিগতভাবে সবকিছু প্রস্তুত। প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন শুধু সম্পূর্ণ সমন্বিত পরীক্ষাটি বাকি, যার জন্য সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। অগ্নি-৬-এর পাল্লা ১০,০০০ কিলোমিটারের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তিতে সজ্জিত থাকবে। এমআইআরভি (MIRV)-এর পূর্ণরূপ হল মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle)। একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা যায়, যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ করে তোলে।
বর্তমানে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের কাছেই পূর্ণ আইসিবিএম (ICBM) সক্ষমতা রয়েছে। অগ্নি-৬ সফল হলে ভারত এই অভিজাত ক্লাবে যোগ দেবে। এটি ভারতের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে, ভারত তার দূরপাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের (এলআর-এএসএইচএম) দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এটি ঘণ্টায় ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়ে যায়। বিশ্বের কোনও দেশই এখনও পর্যন্ত এই গতির কোনও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়নি।
এই পরীক্ষাটি ওড়িশা উপকূলের কাছে চালানো হয়েছিল। এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করে, বিশেষ করে চিনের মতো দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে। বঙ্গোপসাগরে জারি করা নোটামটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে। এটি একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। যদিও কিছু প্রতিবেদন এটিকে অগ্নি-৪ এর সঙ্গে যুক্ত করছে, তবে এর সময় এবং বিজেপির বিবৃতি অগ্নি-৬ নিয়ে আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।