একবার করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ফলে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় প্রথমে গবেষণায় এমনটাই মনে করছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাক্রম চিন্তা বাড়াচ্ছে। দিল্লির এক পুলিশ আধিকারিক করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার ২ মাসের মধ্যে আবার নতুন করে আক্রান্ত হলেন। 

গত মে মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন দিল্লির বছর পঞ্চাশের এক পুলিশ আধিকারিক। মে মাসের ১৫ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ইন্দ্রপ্রস্থের অ্যাপেলো হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। এরপর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তিনি ফের কাজে যোগ দেন। এরপর গত ১০ জুলাই ওই পুলিশ আধিকারিকের শরীরে ফের করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। ১৩ জুলাই তার কোভিড ১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

আরও পড়ুন: রাজধানীর কোভিড কেয়ার সেন্টারে নাবালিকাকে নিগ্রহ, আলিগড়ে করোনা আক্রান্তকে ধর্ষণের চেষ্টা চিকিৎসকের

এই ঘটনা দেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে। তাহলে কী করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির নতুন করে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই পুলিশ আধিকারিকের আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে দিল্লির এক হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশালী বলে জানা গিয়েছে। 

অ্যাপেলো হাসপাতালের সিনিয়ার কনসালটেন্ট চিকিৎসক রাজেশ চাওলা জাননা, প্রথমবার ওই পুলিশ আধিকারেকর করোনা পরীক্ষার সময় তার মধ্যে সংক্রমণের কোনও লক্ষণ ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষার সময় তার শরীরে কোনও অ্যান্টবিডর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন:তিন তিনটি হাসপাতালে জায়গা হল না স্বয়ং করোনা যোদ্ধার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু এবার ডাক্তারের

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক দবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, একবার করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তার স্থায়িত্ব খুব বেশি দিন নয়। ফলে করোনার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা ইমিউনিটি যে খুব দীর্ঘস্থায়ী নয়, তার প্রমাণ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানে।

ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনের সাম্প্রতিক গবেষণা এমন তথ্যই সামনে আসছে। এই গবেষণার জন্য  ৩৪ জন এমন ব্যক্তিকে বাছা হয়েছিল, যাঁরা করোনা আক্রান্ত হলেও উপসর্গ ছিল মৃদু। ভেন্টিলেশন বা অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁরা। এই ৩৪ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে চলে অ্যান্টিবডি টেস্ট। প্রথম নমুনা সংগৃহীত হয় উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৩৭ দিনের মাথায়, আর দ্বিতীয়টি ৮৬ দিনের মাথায়। তাতে দেখা গিয়েছে, প্রথমবার শরীরে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি উপস্থিত ছিল, দ্বিতীয় বার পরীক্ষার সময় তা কমে গিয়েছে অনেকটাই। যার অর্থ, তিন মাসের মধ্যেই মারাত্মক ভাবে কমে যাচ্ছে ইমিউনিট। এবং যে হারে কমছে, তাতে হয়তো, কিছু দিনের মধ্যেই তা তলানিতে চলে আসবে। অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব নিয়ে এই রিপোর্ট স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।