দিল্লির দ্বারকায় এবার দশেরায় বড় চমক। দ্বারকার আকাশে এবার মাথা তুলে দাঁড়াবে ২২১ ফুট উঁচু এক বিশাল রাবণের মূর্তি। ২২ তলা ভবনের সমান উঁচু এই মূর্তিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাবণের মূর্তি বলে দাবি করছেন আয়োজকরা।

দিল্লি এবার এক জমকালো দশেরা উৎসবের জন্য তৈরি হচ্ছে। দ্বারকার আকাশে এবার মাথা তুলে দাঁড়াবে ২২১ ফুট উঁচু এক বিশাল রাবণের মূর্তি। ২২ তলা ভবনের সমান উঁচু এই মূর্তিটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাবণের মূর্তি বলে দাবি করছেন আয়োজকরা। এবারের রাবণ দহন যে এক দারুণ চমক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

দ্বারকা শ্রী রামলীলা সোসাইটি সেক্টর ১০-এ এই বিশাল মূর্তিটি বানাচ্ছে। রাবণের পাশাপাশি থাকছে ৯০ ফুট উঁচু মেঘনাদ ও কুম্ভকর্ণের মূর্তিও। দশেরার উৎসবে এই তিনটি মূর্তিই পোড়ানো হবে। অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির জয়ের এই প্রতীকী উৎসব দেখতে প্রচুর মানুষের ভিড় জমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিন মাস, ১২০ জন কর্মী আর ৭ টন লোহা

দ্বারকা শ্রী রামলীলা সোসাইটির চেয়ারম্যান আকাশ রাজেশ গেহলট জানান, এই মূর্তি তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে। প্রায় ১২০ জন শিল্পী ও কর্মী দিনরাত এক করে কাজ করেছেন।

এই বিশাল প্রজেক্টের জন্য চণ্ডীগড় থেকে বিশেষ শিল্পীদের আনা হয়েছিল। মূর্তিটিকে সঠিক আকার ও মজবুত গড়ন দিতে প্রায় ৭ টন লোহা ব্যবহার করা হয়েছে।

২২১ ফুটের এই বিশাল মূর্তিকে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখাও ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মাটির নিচে ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মূর্তির কাঠামো শক্ত করা হয়েছে। মূর্তির সাজসজ্জাতেও রয়েছে দারুণ চমক। রাবণের পোশাক বানানো হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ ভেলভেট দিয়ে। আর শুধু মুকুটটাই ২৫ ফুট চওড়া!

৪০ লাখ টাকার প্রজেক্ট, রাবণ পুড়বে রিমোট কন্ট্রোলে

এই বিশাল আয়োজনে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এত বড় মূর্তি বানাতে যে পরিমাণ মালমশলা, কারিগরি আর লোকবল লেগেছে, তা এই খরচ দেখলেই বোঝা যায়।

এবারের উৎসবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়াও থাকছে। হাতে আগুন দেওয়ার বদলে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে রাবণের মূর্তিতে আগুন লাগানো হবে। পুরনো প্রথায় এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার দশেরার আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে উৎসবে সবুজ বাজি (গ্রিন ক্র্যাকার্স) ফাটানো হবে।

দ্বারকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২২১ ফুটের রাবণ

২২১ ফুটের রাবণ আর তার দু'পাশে ৯০ ফুটের মেঘনাদ ও কুম্ভকর্ণ— সব মিলিয়ে দ্বারকার এবারের দশেরা উৎসব এক বিশাল আকার নিতে চলেছে।

অনেক দূর থেকেই এই বিশাল মূর্তিগুলো দেখা যাবে। রাবণ দহন দেখতে আসা দর্শকদের কাছে এটাই হবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বিশাল এই মূর্তিগুলো যখন আগুনে পুড়বে, তখন পুরনো ঐতিহ্য আর আধুনিক প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখতে পাবেন সবাই।