রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ব়্যালিতে দিল্লির ১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের। দীপাবলির মরসুমে বন্ধ ছিল ২.৫ লক্ষ দোকান। ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের।

রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের কারণে দিল্লির ব্যবসা-বাণিজ্যে আনুমানিক ১০ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিটিআই) চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল। রবিবার তিনি জানান, ময়দানের আশেপাশের ২০ থেকে ২৫টি বড় বাজার এই সমাবেশে প্রভাবিত হয়েছে।

গোয়েলের দাবি, ওই বাজারগুলিতে প্রায় তিন লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ, অর্থাৎ ৮০ শতাংশের মতো দোকান এ দিন বন্ধ ছিল। তাঁর বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক মানুষ ও গাড়ি আসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, আর সেই কারণেই বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রাখা হয়। যে দোকান খোলা ছিল, সেখানেও ক্রেতা না থাকায় বিক্রি প্রায় হয়নি বলে জানান তিনি। গোয়েল বলেন, বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সন্ধ্যায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এই হিসেব দিচ্ছেন।

শুধু দোকান বন্ধ নয়, দিল্লির আশেপাশের শহর থেকে যাঁরা রোজ ব্যবসার কাজে রাজধানীতে আসেন, সেই ৩ থেকে ৪ লক্ষ মানুষও এ দিন আসতে পারেননি বলে দাবি সিটিআই চেয়ারম্যানের। তাঁর কথায়, প্রায় ৫ হাজার ছোট টেম্পো, ট্রাক ও বড় ট্রাক চলতে পারেনি। ফলে শিল্পাঞ্চল ও পরিবহণ কেন্দ্র থেকে পুরনো দিল্লি ও মধ্য দিল্লির বাজারে পণ্য পৌঁছনো ব্যাহত হয়, মাল ওঠানো-নামানোর কাজও কার্যত বন্ধ ছিল।

গোয়েলের মতে, ক্ষতি আরও বেশি হয়েছে দীপাবলির মরসুম বলে। ধনতেরাসের আর মাত্র চার দিন বাকি। এই সময়ে ওই বাজারগুলিতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। সেই সময়ে বাজার ফাঁকা থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধাক্কা খেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, এই লোকসানের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? আয়োজকেরা কি দেবেন?

সমাবেশের আগেই এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন দিল্লির একাধিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা। কাশ্মীরি গেটের অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএমএ) সভাপতি বিনয় নারাং বলেছিলেন, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে নন, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদেরও বিরোধী নন। কিন্তু সময় ও জায়গা, দুটোই ভুল। তাঁর যুক্তি, চাঁদনি চক, সদর বাজার, দরিয়াগঞ্জ, মোরি গেট ও কাশ্মীরি গেটের মতো এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক এলাকাগুলি ময়দানের তিন কিলোমিটারের মধ্যে। সমাবেশের আগে সংগঠনটির আশঙ্কা ছিল, এতে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে এবং রোজের মজুরির ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিক গভীর আর্থিক সংকটে পড়বেন।

ভোটার তালিকায় কথিত অসঙ্গতি এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর বিরুদ্ধে রবিবার এই সমাবেশ করে ইন্ডিয়া জোট। মঞ্চে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।