করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত পিপিই কিট একটি জ্বলন্ত সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ প্ল্যাস্টিকের তৈরি এই পিপিই কিটগুলি ব্যবহারের পর পড়ে থাকছে এদিক ওদিক। যা সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর প্ল্যাস্টিকের তৈরি হওয়ায় পিপিই কিট থেকে দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। কিন্তু ভারতেরই এক দল গবেষক সব সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের ওই দলটি দাবি করছে পিপিই কিট থেকে বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। 

বায়োফুয়েসল জার্নালে প্রকাশিক হয়েছে একটি গবেষণা পত্র। সেখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন পাইপোলাইসিস নামে উচ্চ তাপমাত্রায়র রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হবে এমন কয়েক বিলিয়ান পিপিই কিট প্ল্যাস্টিকের রাজ্য থেকে বায়োফুয়েলে রূপান্তর করা যেতে পারে। 

কিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করল করোনাভাইরাস, ত্রাস বাড়চ্ছে সংক্রমণ নিয়ে...

লাদাখে লাল ফৌজের অনুপ্রবেশের নথি উধাও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েব সাইট থেকেই গায়েব তথ্য...

উত্তরাখণ্ডের দেরহাদুন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এনার্জি স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাদলের  নেত্রী  স্বপ্ন জৈন জানিয়েছেন, এই জাতীয় জৈব জ্বালানি মানবকল্যাণের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের হাত থেকেও বাঁচাতে বড়ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন পিপিই তৈরি করা হয় পলিপ্রোপলিলন প্ল্যাস্টিক থেকে। তাই এটি নষ্ট হতে অনেক সময় নেয়। কয়েক দশক পরেও ফেলে দেওয়া পিপিই অক্ষত থাকতে পারে। আর সেই কারণেই এগুলি মাটি বা সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরেও চটজলদি নষ্ট হওয়ার কোনও লক্ষণ থাকে না। যা থেকে ভূমি ও জল দূষণ ছড়াতে বাধ্য। তাই এই জাতীয় পিপিই থেকে জৈবজ্বালানী তৈরি করাই শ্রেয় বলে মনে করেছেন তিনি। 

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী পিপিই বর্জ্যকে পাইরোলাইসিস ব্যবহার করে জ্বালানিতে রূপান্তরিক করা যায় বলেই দাবি করেছেন। তাঁরা বলেছেন অক্সিজেন ছাড়াই একঘণ্টা ধরে ৩০০-৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার করে প্ল্যাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল তৈরি করা সম্ভব। যা থেকে বিকল্প জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই প্ল্যাস্টিক থেকে তরল জ্বালানী ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত রয়েছে বলেও জানান হয়েছে। আর ওই জ্বালানী জীবাশ্ম জ্বালানির মতই কাজ করে।