ফের এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা এইমস হাসপাতাল। সোমবার সন্ধ্যায় হস্টেলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্য়া করলেন এক ডাক্তারি ছাত্র। এই নিয়ে গত দুই মাসে এই নিয়ে এই হাসপাতালের চত্ত্বরে মোট পাঁচজন আত্মহত্যা করলেন।  

পুলিশ জানিয়েছেন মৃত ব্যক্তির নাম বিকাশ। বয়স মাত্র ২২ বছর। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা বিকাশ ২০১৮ সালে এইমস-এ ডাক্তারি পড়তে ঢুকেছিলেন। এখন তিনি দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা করছিলেন। এদিন সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এইমস-এর ১৯ নম্বর হস্টেলের ছাদ থেকে ঝাঁপ মারেন তিনি। কবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল পুলিশ। তখনও বিকাশ বেঁচেছিলেন। তাড়াতাড়ি তাঁকে এইমস-এর ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ অবস্য জানিয়েছে আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভুগছিলেন এই প্রতিশ্রুতিমান ডাক্তারির ছাত্র। এক আগে তাঁকে সাইকিয়াট্রি বিভাগেও ভর্তি করতে হয়েছিল। তবে ইদানিং সে ভালোই ছিলেন। এদিনও বিকাশ ডিউটিতেই ছিলেন। ওয়ার্ড থেকে এক ঘন্টার জন্য ছুটি নিয়ে হস্টেলে ফিরেছিলেন। তারপরই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। কিন্তু, ঠিক কেন তিনি আত্মহত্য়া করলেন, সেই বিষয়ে আরও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

তবে গত ৫ জুন থেকে ভারতের এই সর্বোথকৃষ্ট মেডিকেল ইনস্টিটিউটে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। ৫ ই জুন, এক ২২ বছর বয়সী ব্যক্তিকে এআইএমএস-এর দোতলার সিঁড়ির রেলিং-এ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। ৬ জুলাই হাসপাতালের চতুর্থ তল থেকে ঝাঁপ মেরে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন চিকিত্সাধীন কোভিড আক্রান্ত এক ৩৭ বছর বয়সী সাংবাদিক। চারদিন পরই ২৫ বছর বয়সী এক জুনিয়র ডাক্তার হাসপাতালের দশম তলা থেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। ১৭ জুলাই, হাসপাতালের জরুরি শাখার বাথরুমে মধ্যপ্রদেশের সাতনার বাসিন্দা, ৩২ বছরের এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সকলেই অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে।