ম্যাট্রিমনি সংস্থাগুলো হামেশাই দাবি করেন, কয়েক মাসের মধ্যে উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রী খুঁজে দিতে পারবে তারা। এর জন্য ম্যাট্রিমনি সংস্থাগুলো মোটা অঙ্কের টাকাও নেয়। কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহক উপকৃত হন। পেয়ে যান মনের মতো জীবনসঙ্গী। কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহককে নিরাশ হতে হয়। ম্যাট্রিমনি সংস্থাগুলো থেকে উঠে যায় ভরসা। সময় ও অর্থ দুই নষ্ট হয়ে যায়। জীবন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের অন্য উপায় খুঁজে বার করতে হয়। উপায় তো বের করে গ্রাহক, কিন্তু ম্যাট্রিমনি সংস্থা যে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সময় বা অর্থ নষ্ট করল, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে। এই অবস্থায় পড়েছিলেন চণ্ডীগড়ের একজন চিকিৎসক। কিন্তু তিনি  হার মেনে নেননি। ওই   ম্যাট্রিমনির বিরুদ্ধে ক্রেতা সুরক্ষা উপভোক্তা আদালতে মামলা করে দেন। মামলায় জয় লাভও করেন। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে নেওয়া সমস্ত অর্থ তাঁকে ফেরত দিতে হবে ওই ম্যাটিমনি সংস্থাকে। দিতে হবে তার সুদও। 

২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বরে চণ্ডীগড়ের সুরেন্দ্র পাল সিং চাহাল এবং নিরেন্দ্র কৌর চাহাল ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে অভিযোগ করেন। সেখানে তাঁরা জানান, তাঁর  মেয়ের উপযুক্ত পাত্রের জন্য একটি ম্যাট্রিমনি সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁরা শুরুতেই সংস্থাকে বলে দিয়েছিলেন, তাঁদের মেয়ে মাঙ্গলিক এবং ২০১৭ সাল থেকে হরিয়ানা সরকারের অধীনে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন।  তাঁরা  ম্যাটিমনি সংস্থার কাছে দাবি করেন, মেয়ের জন্য চণ্ডীগড় নিবাসী, জাঠ, চিকিৎসক পাত্র। ওই ব্যক্তিকে মাঙ্গলিকও হতে হবে।  সেই সমসয়  ম্যাট্রিমনি সংস্থাটি চুক্তি করার জন্য বলে। দাবি করে, আগামী নয় মাসের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ১৮ জনের প্রোফাইল দেখানো হবে। চাহাল পরিবার রাজি হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চাহাল পরিবার সংস্থাটির সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এই চুক্তির জন্য চাহাল পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। 

ক্রেতা সুরক্ষা আদালত থেকে চণ্ডীগড়ের ওই ম্যাট্রিমনি সংস্থার কাছে নোটিশ পাঠানো হলেও কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। শুনানির সময় ম্যাট্রিমনি সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ৯ মাসে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ১৮ জনের প্রোফাইল পাঠিয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে কাউকে পছন্দ না হওয়ায় সংস্থাটিকে আরও নয় জনের প্রোফাইল পাঠাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে সংস্থাটির তরফে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু গ্রাহক রাজি হয়নি। ম্যট্রিমনি সংস্থার আধিকারিকরা পাশাপাশি জানিয়েছেন,  ক্ষতিপূরণের অর্থ কতদিনের মধ্যে  গ্রাহককে দিতে হবে, সেই বিষয়ে আদালত কোনও সময়-সীমা বেঁধে দেয়নি।