- Home
- India News
- Election ink: ভোটের কালির এই দাগ কেন মোছা যায় না? কারা তৈরি করে এই কালি, জানুন কোথায় তৈরি হয়?
Election ink: ভোটের কালির এই দাগ কেন মোছা যায় না? কারা তৈরি করে এই কালি, জানুন কোথায় তৈরি হয়?
Election ink History: ১৯৬২ সাল থেকে ব্যবহৃত ভোটার কালিটি এমন জিনিস দিয়ে তৈরি, যা জল বা সাবানে ওঠে না। এই কালিটি ভোটদানে জালিয়াতি রুখতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমানে ৩০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়। কোথা এবং কারা তৈরি করে এই কালি, জানুন বিস্তারিত

জাদুকরী ভোটার কালি
Election ink History: প্রথমে বেগুনি, তারপর কালো, এটি সত্যিই এক জাদুকরী কালি! আঙুলে লাগানোর ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই এর রঙ বদলে যায়। এটি শরীরের সোডিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে মিশে এমন এক অনন্য রাসায়নিক তৈরি করে যা জল বা সাবান দিয়ে তোলা যায় না।
নির্বাচনী কালির ইতিহাস
হ্যাঁ, আমরা ভোট দেওয়ার সময় আঙুলে লাগানো নির্বাচনী কালির কথাই বলছি। আইন, ঐতিহ্য বা প্রয়োজনের কারণেই হোক, এটি ১৯৬২ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এখনও অব্যবহৃতই রয়ে গেছে। এটি এক আশ্চর্যজনক কালি। বাম হাতের তর্জনীতে লাগানো এই কালিটি নিশ্চিত করে যে, কেউ যেন ভোটদান প্রক্রিয়ায় একাধিকবার অংশগ্রহণ করতে না পারে।
জাদুকরী কালির আইনি বৈধতা
এই জাদুকরী কালির আইনি বৈধতাও রয়েছে। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, একজন ভোটারের বৃদ্ধাঙ্গুলি বা অন্য কোনো আঙুলে স্থায়ী কালি লাগানো বাধ্যতামূলক। যখন এই জাদুকরী কালিকে বৈধ করা হয়েছিল, তখন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হতো, কিন্তু ইভিএমের যুগেও এই কালি তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে।
এই জাদুকরী কালি কীভাবে তৈরি হয়?
ভোটদানের সময় ব্যবহৃত এই জাদুকরী কালিটি সিলভার নাইট্রেট থেকে তৈরি। এটি একটি বর্ণহীন যৌগ যা অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে দৃশ্যমান হয়। এই কালি ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত যেকোনো ডিটারজেন্ট, সাবান, গৃহস্থালি পরিষ্কারক দ্রব্য বা তরলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী থাকে। এই কালিতে অ্যালকোহলের মতো একটি দ্রাবক থাকে, যা এটিকে দ্রুত শুকিয়ে দেয়।
এই কালি কেন ব্যবহার করা হয়েছিল?
১৯৫২ সালে যখন দেশের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন নির্বাচন কমিশনের কাছে অসংখ্য অভিযোগ আসে যে কিছু এলাকায় একই ব্যক্তি অন্যের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর অর্থ হলো, কিছু লোক একাধিকবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
সহজে মোছা যায় না
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য নির্বাচন কমিশন সমাধান খুঁজতে শুরু করে। অবশেষে, কমিশন এমন একটি চিহ্ন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় যা সহজে মোছা যাবে না এবং এটি নিশ্চিত করবে যে চিহ্নিত ব্যক্তিই ভোট দিয়েছেন। এর পরে, নির্বাচন কমিশন ভারতের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভারতের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি এমন একটি কালি তৈরি করে যা জল বা রাসায়নিক পদার্থ দিয়েও চিহ্নটিকে অমোচনীয় করে তোলে।
মহীশূর পেইন্ট অ্যান্ড ভার্নিশ কোম্পানি
এরপর মহীশূর পেইন্ট অ্যান্ড ভার্নিশ কোম্পানিকে এই কালি তৈরির আদেশ দেওয়া হয়। মহীশূর পেইন্ট অ্যান্ড ভার্নিশ কোম্পানির তৈরি এই কালিই এখন ভোটার সার্টিফিকেটে পরিণত হয়েছে। তখন থেকে এই কোম্পানি এই কালি তৈরি করে আসছে, যদিও এর ফর্মুলা গোপনই রয়ে গেছে।
আগে আঙুলের ডগায় লাগানো হতো, আর এখন এটি নখে লাগানো হয়
১৯৭১ সালের আগে এই জাদুকরী কালি আঙুলের ডগায় লাগানো হতো। কিন্তু ততদিনে নির্বাচন কমিশনের কাছে অসংখ্য অভিযোগ আসে যে, মানুষ তাদের আঙুলে এই কালি লাগাতে অস্বীকার করছে। বলা হয়, বারাণসীর এক যুবতী তার বিয়ের কথা বলে এই জাদুকরী কালি আঙুলে লাগাতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন।
নখে কালি লাগানোর আদেশ
এরপর, ১৯৭১ সালে নির্বাচন কমিশন নিয়ম সংশোধন করে আঙুলের পরিবর্তে নখে কালি লাগানোর আদেশ দেয়, যাতে নখ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালির দাগ ধীরে ধীরে মুছে যায়। মহীশূরের একটি বার্নিশ কোম্পানি এখন বিশ্বের অনেক দেশে এই কালি রপ্তানি করে, কিন্তু এর ফর্মুলা শুধুমাত্র সেই কোম্পানির হেফাজতেই থাকে।
এই কালির ইতিহাস
এই কালির ইতিহাস ভারতের ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে এটি সর্বপ্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। এই কালিটি ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি’ (CSIR-NPL) কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং ‘মহীশূর পেইন্টস অ্যান্ড বার্নিশ লিমিটেড’ দ্বারা উৎপাদিত।
বিদেশে রপ্তানি করা হয়
বর্তমানে এটি ৩০টিরও অধিক দেশে রপ্তানি করা হয়, যা জালিয়াতি প্রতিরোধের একটি ব্যবস্থা হিসেবে এর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতারই পরিচায়ক।

