অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া পাকিস্তানের সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। পাকিস্তানের বিরোধী দল নেতা আয়াজ সাকিদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রীতিমত হুংকার ছাড়লেন ভারতের বায়ু সেনার প্রাক্তন প্রধান বিএস ধানোয়া। তিনি আরও বলেন পাকিস্তান আন্দাজ করতে পেরেছিল ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের যদি কোনও ক্ষতি ইমরান খানের প্রশাসন করে তাহলে তার পরীণতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আর এই বিষয়ে তাঁদের বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় যে তাঁরা অভিনন্দন বর্তমানের বাবাকেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যেকোনয়ও প্রকারেই হোক না কেন তাঁরা অভিনন্দন বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনবেন।   

অভিনন্দনকে না ছাড়লে আক্রমণ করবে ভারত, শুনেই ভয় পান সেনাপ্রধান, পাক সংসদে বিস্ফোরক বয়ান সংসদের .

এবার পাকিস্তান আলো দেখাবে 'রাজপুত্র'কে, অভিনন্দন ইস্যুতে সাদিকের মন্তব্যকেই হাতিয়ার জেপি নাড্ডার ...
প্রাক্তন বায়ু সেনা প্রধান জানিয়েছেন সেই সময় দেশের সেনাবাহিনী অভিনন্দন বর্তমানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ভারতের বায়ু সেনা পাকিস্তানের ফরোয়ার্ড এলাকাগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন পাকিস্তান জানে ভারতের সামরিক শক্তি কতটা। আর সেই কারণেই পাক প্রশাসন ভয় পেয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে চাপ বাড়াচ্ছিল ভারত। ভারতীয় সেনা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে তৎপর ছিল। তাই কিছুটা ভয় পয়েছিল পাক প্রশাসন। 


পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতা আয়াজ সাদিক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কাছে মাথা নত করেছে ইমরান খান প্রশাসন। তিনি বলেন ২০১৯ সালে অভিনন্দন বর্তমানকে যখন পাকিস্তানে আটক করা হয়েছিল তখন একটি বৈঠক হয়েছিল। আর সেই বৈঠকে উপস্থিত হতে চাননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই বৈঠকে তিনি হাজির ছিলেন। পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশির উপস্থিতিতে সৈই  বৈঠক হয়েছিল। সেখানে যখন পাক সেনা বাহিনীর প্রধান বাহিনীর প্রধান বাজওয়া আসেন, তখন তিনি রীতিমত কাঁপছিলেন। তাঁর ঘামতেও দেখেছিলেন বলেও দাবি করেছেন সাদিক। তিনি আরও বলেন অভিনন্দনকে না ছাড়লে ভারত রাত ৯টার মধ্যেই পাকিস্তানকে আক্রমণ করবে এই কথা শুনে ভয় পেয়েছিল ইমরান খানের প্রশাসন। আর ভয় পেয়েই অভিনন্দনকে মুক্তি দিয়েছিল পাক সরকার। বিজেপি সাদিকের এই বক্তব্যকেই রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। 

পাকিস্তান সাংসদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই মুখ খুলেছেন প্রাক্তন বায়ু সেনা প্রধান ধানোয়া। তিনি আরও বলেন অভিনন্দনের বাবার সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক ছিল। দুজনে একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন অভিনন্দনকে পাকিস্তান আটক করার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ছাড়ানোর বিষয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। কিন্তু স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজার কথা স্মরণ করে সেনা জওয়ানকা কিছুটা উদ্বেগে ছিল। কারণ ১৯৯৯ সালে মিগ ২১ যুদ্ধ বিমান চালানোর সময় পাক সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল আহুজার। তাঁর কথায় পাক সেনা বাহিনী ফাইটার জেটটি গুলি করে নামিয়েছিল। তবে অভিনন্দন পাকিস্তান থেকে ছাড়িয়ে আনতে সফল হয়েছিল ভারত। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরেয়ে আনা হয়েছিল। দেশে ফিরে আসার পর খুব দ্রুতততার সঙ্গে ককপিটে ফেরায় তিনি খুশি বলেও জানিয়েছেন।