আগামী দিনে কৃষি আইনকেই হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে ময়দানে নামার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কংগ্রেস। তা আরও একবার পরিষ্কার করে দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।  সনিয়া গান্ধী কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিকে কৃষি আইন পাশ কাটিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি  নতুন কৃষি আইনকে অত্যাচারী আইন বলেও আখ্যা দিয়েছেন। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন এমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হোক যেখানে কৃষকরা কেন্দ্রের দ্বারা গুরুতর অবিচারের হাত থেকে বাঁচতে পারে। 

২০ সেপ্টেম্বর রবিবার রাজ্যসভায় তুমুল বিতর্কের মধ্যে দিয়ে পাশ হয়ে গেছে কৃষি বিল।  গত রবিবারে সেই বিলে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কেভিন্দ। তারপর তা আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আইনের বিরুদ্ধে এখনও সোচ্চার রয়েছেন কৃষকরা। পঞ্জাব হরিয়ানা থেকে শুরু হওয়া কৃষক অসন্তোষ ধীরে ধীরে হলেও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেরলের কংগ্রেস সাংসদ টি এন প্রতাপন কৃষি আইন খারিজের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংও কৃষি আইন নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনিও কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের আইন বাতিলের দাবি তুলেছেন। 

বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলির অন্যতম অভিযোগ কেন্দ্রে প্রণয়ন করা কৃষি আইনে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। সনিয়া গান্ধীর পরামর্শ ২৫৪ (২) অনুচ্ছেদ মেনে অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি নিজস্ব আইন এনে কেন্দ্রের কৃষক বিরোধী আইন খারিজ করতেই পারে। কংগ্রেস নেতা বেনুগোপাল বলেন এর ফলে ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি তুলে দিতে যে আইনগুলি চালু করেছে কেন্দ্র তা সহজেই এড়িয়ে যেতে পারে রাজ্যগুলি। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ২০১৪ সালে ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন করে শিল্পায়নের রাস্তা প্রসস্থ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে সাংবিধানিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের আইন খারিজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন কংগ্রেস সেই দিকেই হাঁটতে চাইছে বলে সূত্রের খবর।