শীতের শুরুতেই শুরু হয়েছিল আন্দোলন। শীত কেটে এখন বসন্ত। কিন্তু প্রতিবাদী কৃষকদের আন্দোলন পরিত্যাগ করার আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই- তা আবারও প্রমাণ হল আসন্ন গ্রীষ্মের জন্য তাঁদের পরিকল্পনা দেখে। বসন্তে দিল্লি উকণ্ঠে আবহাওয়া অনেকটাই মনোরম। কিন্তু শীতের মত গ্রীষ্মেও এই এলাকায় প্রতিকূল হয়ে ওঠে। তাই আগে থেকেই গ্রীষ্মে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কৃষকরা। 


বিক্ষোভকারীরারা গাজিপুর সীমানায় প্রচুর পরিমানে বাঁশ জড়ো করেছে। তরুণ আন্দোলনকারী জানিয়েছেন আসন্ন গ্রীষ্মে প্রখর সূর্য তাপের হাত থেকে বাঁচতে বাঁশের তাঁবু তৈরি করা হবে। সেই জন্য এখন থেকে পরিকল্পনা শুরু করে দেওয়া হয়েছে। বাঁশের তৈরি তাঁবুতে বাঁশের খুঁটির সিলিং-এ পাখা লাগানোরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েন আন্দোলনকারীরা। গ্রীষ্মেও যাতে আন্দোলনকারীদের কোনও সমস্যা না হয় সেই জন্য ছাদ থেকে ঝুপড়ি তৈরি করা হবে। মোটকথা আন্দোলনকারী কৃষকদের মাথায় অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করা হতে পারে। কয়েকজন আন্দোলনকারী আবার আন্দোলন স্থলে কুলার রাখার চিন্তাভাবনা করছেন বলেও জানান হয়েছে। গ্রীষ্মকালে আন্দোলনকারীদের পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও করা হবে। ওই সময় যাতে কৃষকদের ভেক্টরজনিত রোগের চিকিৎসারও ব্যবস্থা থাকবে। রাতে অন্ধকারে মশার উপদ্রবের হাত থেকে বাঁচতে মশারির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন এক আন্দোলনকারী। 


তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত নভেম্বর মাস থেকেই দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। বেশিরভাগ আন্দোলনকেন্দ্র গুলি মেইন রাস্তা বা জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকা। তাই গরমকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। কারণ প্রবল গরমে দিল্লির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়ালের আসেপাশে পৌঁছে যায়। আর সেই কারণে এখন থেকেই তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দিল্লিতে শীতকাল যতটা কষ্টকর ঠিক ততটাই কষ্টকর গ্রীষ্মের দিনগুলি। এক কৃষক জানিয়েছেন তিনটি আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাড়ি ফিরবেন না। তাঁরা যেমন প্রবল শীত উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন তেমনই প্রবল গরম উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।