গোটা দিল্লি নির্বাচনের প্রচারে শাহিনবাগ আন্দোলনকে আক্রমণ, কেজরিওয়ালকে সন্ত্রাসবাদী বলে কটাক্ষ করে জাতীয়তাবাদের ধোঁয়া তুলতে চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথরা। কিন্তু ইভিএম খুলতেই দেখা গেল দেশাত্মবোধের আবেগ খুঁচিয়ে তোলার রাজনীতিকে টেক্কা দিয়েছে জনমুখী প্রকল্প। বিনা পয়সার বিদ্যুৎ, জল থেকে শুরু করে মহিলাদেরনিখরচায় বাস, মেট্রোয় চড়ার ব্যবস্থা করে বিজেপি-কে ধরাশায়ী করে দিলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর সরকার। সরকারি কোষাগারে চাপ বাড়িয়ে শুধু বিনা পয়সার পরিষেবা নয়, নাগরিক পরিষেবা দিয়েও দিল্লিবাসীর মন জিতে নিয়েছিলেন আপ প্রধান। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন পাঁচটি মোক্ষম অস্ত্রে বিজেপি-কে ধরাশায়ী করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল-

  • গত অগস্ট মাসে দিল্লি সরকার ঘোষণা করে, প্রতি মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করলে কোনও বিল দিতে হবে না। কোষাগারের উপরে বিপুল চাপ পড়লেও আপ সরকারের এই সিদ্ধান্ত দিল্লিবাসীর মন জয়ে মাস্টারস্ট্রোক ছিল। ভোট প্রচার এর কোনও জবাব ছিল না বিজেপি-র কাছে। শুধু তাই নয়, যাঁরা ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করেন, তাঁদেরকেও প্রতি মাসে পঞ্চাশ শতাংশ ভর্তুকি দেয় আপ সরকার। 
  • শুধু বিদ্যুৎ নয়, পরিবার পিছু প্রতি মাসে ২০০০০ লিটার জল বিনামূল্যে দেয় আপ সরকার। 
  • গত বছর ভাইফোঁটায় দিল্লির মহিলা নাগরিকদের জন্য বিনা পয়সায় বাসে চড়ার প্রকল্প আনে আপ সরকার। 
  • এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রোতেও বিনামূল্যে মহিলাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আপ সরকার। 
  • দিল্লিতে কেজরিওয়াল সরকারের আরও একটি বড় সাফল্য সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ফেরানো এবং সরকারি স্কুলগুলিকে আমূল বদলে দেওয়া। দিল্লির মহল্লায় মহল্লায় সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে মানুষের হাতের কাছে সুলভে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পৌঁছে দিয়েছে আপ সরকার। বিনা পয়সার বিদ্যুৎ, জল, বাস- মেট্রোর টিকিট-এর সঙ্গে আমজনতার আস্থা অর্জনে যা অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে আপ-কে।